রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ব্যক্তি তালিকাভুক্ত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তিনি আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের শ্যালক।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় তাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন যে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল টিটন তাদের অন্যতম।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোল্লা শাহাদাত বলেন, রাত পৌনে আটটার দিকে মোটরসাইকেলে এসে কয়েকজন দুর্বৃত্ত এক যুবককে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। খুব কাছ থেকে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচ থেকে ছয়টি গুলি করে। এরপর দ্রুততম সময়ে পালিয়ে যায় তারা।
পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, টিটনের পুরো নাম খন্দকার নাঈম আহমেদ। তিনি মূলত ঢাকার রায়েরবাজার ও হাজারীবাগ এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। টিটন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের শ্যালক (ইমন টিটনের ছোট বোন নীলাকে বিয়ে করেছেন)। আপন বোন জামাইয়ের সঙ্গে আধিপত্য নিয়ে বিরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
টিটন দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি জামিন পান। কিন্তু আইনি জটিলতা কারামুক্তি হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি কারামুক্ত হন। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দেননি এবং পলাতক ছিলেন। তার অনুপস্থিতির কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
টিটনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক মামলা রয়েছে।
পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকার ক্রিপ্টো ফিরিয়ে আনলো সিআইডি
নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে একজন নিহত