বহুল আলোচিত ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলায় আবার জেরার মুখোমুখি হতে রোববার সকালে আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন ঢালিউড গ্ল্যামার কন্যা পরীমনি। কিন্তু মেগাসিটি ঢাকার চিরচেনা যানজটের কবলে পড়ে নির্ধারিত সময়ে আর এজলাসে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। ফলে জেরা পিছিয়ে বিচারক আগামী ৩০ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
পরে বেলা দুপুর ২টার দিকে সিএমএম আদালত প্রাঙ্গণে ধীর পায়ে উপস্থিত হয়ে গণমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন পরীমনি। গ্ল্যামার জগতের আলোর ঝলকানি ছেড়ে টানা পাঁচ বছর ধরে আদালতের বারান্দায় ঘোরার ক্লান্তি আর ক্ষোভ ঝরে পড়ে তাঁর কণ্ঠে।

মামলা চলার এই দীর্ঘ প্রক্রিয়াকে ‘মানসিক নির্যাতন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বাস করেন, যার সাথে ঘটে সে-ই আসলে বোঝে কিসের মধ্য দিয়ে যেতে হয়! যখন এই ডেটগুলো পড়ে, আমি অনেক মেন্টাল ট্রমার মধ্য দিয়ে যাই। পুরানো সেই কালো রাত আর বিভীষিকাময় ঘটনাগুলো আবার নতুন করে মনে পড়ে যায়। এগুলো সত্যি বলতে আমার জন্য একটা মেন্টাল টর্চার।
আদালতে দেরিতে পৌঁছানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দুই সন্তানের এই জননী নিজের সংসারের ব্যস্ততার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দিন আগেই আমার মেয়ের ভ্যাকসিন ছিল। বাচ্চা মানুষ করা, রাতে ঘুম না হওয়া, সব সামলে আদালতের এই চাপ নেওয়া অনেক হ্যাসেল। পাঁচটা বছর তো পার হয়ে গেল। আমি আর এই হ্যাসেল নিতে পারছি না! যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জেরা শেষ হোক, রায় হয়ে যাক, একটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। আল্লাহর কাছে দোয়া করি দ্রুত যেন এই যন্ত্রণা শেষ হয়।
রাজনীতি বা রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে বরাবরের মতোই সোজাসাপ্টা ও চড়া সুর বজায় রাখেন এই নায়িকা। তিনি বলেন, আমি কোনো দল দেখি না, আমি দেখব আমার মামলা ও দেশের আইন। আমার মনে হয় না আইন কোনো দলের জন্য বিভক্ত হয়ে যায়। আইন আইনের জায়গায় থাকে। আইনকে শ্রদ্ধা করি বলেই তো এই পাঁচটা বছর ধরে একটা সুন্দর রায়ের আশায় অপেক্ষা করছি।

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এর বিচারক শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়ার আদালতে পরীমনির জেরা হওয়ার কথা ছিল রোববার। সকাল ১১টার দিকে নায়িকার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী ১২টার দিকে জেরা রাখার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। কিন্তু দুপুর ১২টায় বিচারক দু-দুবার পরীমনির নাম ধরে ডাকলেও তিনি পৌঁছাতে পারেননি। আইনজীবী জানান, যানজটের কারণেই সময়মতো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ততক্ষণে অন্যান্য মামলার শুনানি শেষ হয়ে গেলে আসামিরাও আদালত ছেড়ে চলে যান।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের বিরুলিয়ার বোট ক্লাবে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন পরীমনি। এরপর ফেসবুক লাইভ ও সংবাদ সম্মেলন করে তোলপাড় ফেলে দেওয়ার পর সাভার থানায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন, তুহিন সিদ্দিকী অমি ও শহীদুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। ঘটনার পর আসামি নাসির ও অমি গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন।
