হুমকি ও ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি সময়মতো সহায়তা পৌঁছাতে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য একটি কার্যকর ও সমন্বিত ‘রেফারেল ব্যবস্থা’ শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীরা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে পরিচালিত ‘ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ফর ডিজিটাল ডেমোক্রেসি’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এ তাগিদ দেন।
সেমিনারে ‘বাংলাদেশে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য সহায়তা সেবার ম্যাপিং এবং একটি রেফারেল ব্যবস্থা প্রস্তাব’ শীর্ষক একটি গবেষণার ফলাফল ও কৌশলগত সুপারিশমালা প্রকাশ করা হয়।
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নেতৃত্বে প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ছাড়া প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এজন্য সরকার, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় প্রয়োজন।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি তরুণদের দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তির ইতিবাচক রূপান্তরে যুক্ত হওয়ার আহবান জানান।
গবেষণায় দেখা যায়, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য আইনি, মনোসামাজিক ও ডিজিটাল সুরক্ষার বিভিন্ন সেবা দেশে বিদ্যমান থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো পৃথকভাবে বা বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে। ফলে বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জরুরি সেবা প্রাপ্তিতে বড়ো ধরনের বৈষম্য রয়েছে।
আইনি হয়রানি, ডিজিটাল হুমকি, শারীরিক আক্রমণ এবং অর্থনৈতিক চাপকে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সেমিনারে ইইউর ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা বলেন, হুমকির মুখে পড়লে সহায়তার জন্য কোথায় যেতে হবে, সে বিষয়ে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। আজকের এ উদ্যোগ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বাকস্বাধীনতা বাড়ালেও অপতথ্য, ঘৃণা ছড়ানো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে সবার নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস সময়োপযোগী আইনি পদক্ষেপ ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, আইন-নীতিমালা থাকার চেয়েও বড়ো বিষয় তার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। তরুণদের সচেতনতার মাধ্যমে পরিবর্তনের অংশীদার করার পরামর্শ দেন তিনি। গবেষণায় দেশে আইনি ও সুরক্ষা সহায়তার জন্য একটি ‘কেন্দ্রীয় জাতীয় রেফারেল হাব’,
‘কমিউনিটিভিত্তিক নেটওয়ার্ক’ ও ‘জেলা পর্যায়ের বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা’—এই তিন স্তরের একটি টেকসই মডেলের প্রস্তাব করা হয়।
