বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তুরাগ ও বুড়িগঙ্গার বুকজুড়ে বসেছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের জমকালো আসর। নদীর জলে তালে তালে বৈঠা পড়ার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, আর দু'পাশের হাজারো মানুষের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজধানীর বছিলা এলাকা। একদিকে যেমন ছিল গতি ও উত্তেজনার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, অন্যদিকে আয়োজকদের কণ্ঠে ছিল মৌলবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক লড়াই জোরদার করার এক জোরালো হুঙ্কার!

নদীর বুকে প্রতিযোগিতার নৌকাগুলোর ছুটে চলা আর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের করতালি, সব মিলিয়ে ব্যস্ত রাজধানীর একাংশ যেন কিছু সময়ের জন্য ফিরে যায় চিরচেনা বাংলার সেই নৌকা বাইচের আবহে। রাজধানীতে নদী ও লোকজ সংস্কৃতিকে ঘিরে এমন আয়োজন খুব বেশি হয় না। তাই প্রচণ্ড দাবদাহ উপেক্ষা করেও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, নাগরিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও বাঙালির ঐতিহ্য ও শেকড়ের সঙ্গে মানুষের টান এখনো অটুট।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে সোমবার দুপুরে ঢাকার বছিলা এলাকায় এই বর্ণাঢ্য নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় মোট ছয়টি শক্তিশালী দল। হারিয়ে যেতে বসা আবহমান বাংলার শতবছরের এই সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখাই ছিল মূলত এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। প্রতিযোগিতা দেখতে বছিলাসহ তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন সব বয়সী মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণদের বাঁধভাঙা উপস্থিতিতে এক প্রাণবন্ত উৎসবের মেলা বসেছিল নদীজুড়ে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, এমন চোখজুড়ানো আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে দেশের শিকড় ও শিকড়ের ঐতিহ্যের সাথে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবে। সেই সাথে মারাত্মক দূষণের কবলে থাকা বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীকে বাঁচাতে বর্তমান সরকার যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তা-ও পুনর্ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, নৌকা বাইচ বাঙালির আবহমান সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজধানীতে এমন আয়োজন মানুষের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

বিশেষ অতিথি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী বলেন, নৌকা বাইচ বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। রাজধানীতে এ ধরনের আয়োজন মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে।
আয়োজনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল ধর্মীয় উগ্রবাদ ও অন্ধকারের বিরুদ্ধে সংস্কৃতিকে অস্ত্র হিসেবে তুলে ধরা। আয়োজকরা সোজা জানান, মৌলবাদী গোষ্ঠীর অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক লড়াই জোরদার করেই আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে টিকিয়ে রাখতে হবে। খেলা আর রাজনীতির এমন যুগলবন্দী রাজপথ ছাড়িয়ে নদীপ্রান্তেও তৈরি করল এক নতুন আলোচনা!
