রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করা এবং যানজট নিরসনে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ বা ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস সেবা পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এই নতুন পদ্ধতিতে রাজধানীর প্রতিটি নির্ধারিত রুটে একাধিক কোম্পানির প্রতিযোগিতার বদলে মাত্র একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির অধীনে ফ্র্যাঞ্চাইজি বাস চলাচল করবে। সচিবালয়ে ঢাকা মহানগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে বাসের স্টপেজ নির্ধারণ, লক্কড়ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন বাস মেরামত এবং চালকদের চুক্তির বদলে স্থায়ী মাসিক বে头的 ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে দুটি পরীক্ষামূলক রুটে এই সেবা চালুর পর আগামী ৬ মাসের মধ্যে পুরো ঢাকাকে ৩২টি নতুন রুটে বিভক্ত করে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। এতে ই-টিকেটিং, নির্ধারিত বাস কাউন্টার এবং জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাস চলাচলের সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হবে।
উল্লেখ্য, একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাসের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক চালনার কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনা ও যানজট কমাতে ২০১৫ সালে তৎকালীন সরকার বাস ফ্র্যাঞ্চাইজি চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঘাটারচর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ২৬ নম্বর রুটে ট্রান্স-সিলভা ও বিআরটিসির মাধ্যমে পরীক্ষা চালানো হলেও অন্যান্য কোম্পানির বাস একীভূত না হওয়ায় এবং মালিকদের সহযোগিতার অভাবে সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমান সরকার নতুনভাবে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) মাধ্যমে ৫২টি স্থানে ৭২ ঘণ্টার ট্রাফিক সমীক্ষা চালিয়ে ঢাকাকে ৩২টি রুটে সাজানোর নতুন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে হাত দিয়েছে।
সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম জানান, রাজধানীতে অনুমোদিত ৪১৮টি রুটের মধ্যে ৯৮টি সচল থাকলেও বর্তমানে ১২০টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে সাত হাজার অনুমোদিত বাস বিশৃঙ্খলভাবে চলাচল করছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে এসব বাসকে একীভূত করে একটি করে কোম্পানি গঠন করা হবে এবং মালিকরা তাঁদের বিনিয়োগের অনুপাতে লভ্যাংশ পাবেন।
এতে চালকদের ওভারটেকিং বা বেপরোয়া প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে। আগামী রবিবার থেকেই পরিবহন মালিকরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ শুরু করবেন।
সচিবালয়ের গুরুত্বপুর্ণ এই বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধান মন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
