নরসিংদীর সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নে এক স্থানীয় যুবদল নেতার বাড়ির গেটে কাফনের কাপড়, আগরবাতি, গোলাপজল ও ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লেখা একটি চিরকুট রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
চিরকুটে ওই যুবদল নেতাকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার জন্য সতর্ক করে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর আমদিয়া ইউনিয়নের বনাইদ গ্রামে।
ভুক্তভোগী ওই নেতার নাম মোবারক হোসেন (৫০)। তিনি বনাইদ গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। পেশায় ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন আমদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যুবদল নেতা মোবারক হোসেনের বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে একটি শপিং ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। ব্যাগটি খোলার পর তার ভেতর সাদা কাফনের কাপড়, গোলাপজল, আগরবাতি এবং একটি চিরকুট দেখতে পাওয়া যায়।
ঘটনার সময় মোবারক হোসেন ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বাড়ি থেকে স্বজনরা ফোনে বিষয়টি জানালে তিনি দ্রুত এলাকায় ফিরে আসেন এবং স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাদের পাশাপাশি পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামতগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মোবারক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখা চিরকুটটিতে আমাকে অত্যন্ত নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ইউপি নির্বাচনে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোশাররফ মেম্বারের বিপক্ষে প্রার্থী না হওয়ার জন্য চূড়ান্ত হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিরকুটে পরিষ্কার লেখা ছিল, বিষয়টি পুলিশ বা কাউকে জানালে আমাকে সরাসরি প্রাণে মেরে ফেলা হবে।
এ ঘটনায় গভীর নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে তিনি মাধবদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে সুষ্ঠু বিচার ও নিজের নিরাপত্তা দাবি করেছেন।
এদিকে খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাত থেকেই ওই যুবদল নেতার বাড়িতে স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতা-কর্মীদের ঢল নামে। এ বিষয়ে আমদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইনুল হক মিয়া তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, কে বা কারা চিরকুট লিখে আমাদের সংগঠনের নেতা মোবারক হোসেনকে হত্যার হুমকি দিয়েছে, তা পুলিশের খতিয়ে দেখা উচিত। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বনাইদ গ্রামে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। দুর্বৃত্তদের রেখে যাওয়া কাফনের কাপড়সহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগী যুবদল নেতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
