রাজধানী ঢাকার অত্যন্ত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ধউর-আশুলিয়া সড়কের যানজট নিরসন এবং দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের গতি বাড়াতে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দুটি নতুন সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার সকালে ৩.৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ দুই লেনের পৃথক সার্ভিস সেতু দুটি উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এর মাধ্যমে ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই মেগা প্রকল্পের মোট কাজের প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হলো।

ধউর ব্রিজের ওপর আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ঢাকা-১৯ আসনের এমপি দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক, প্রকৌশলী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নবনির্মিত ৩.৭১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সার্ভিস সেতু দুটি সম্পূর্ণ টোলমুক্ত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও কোনো টোল নেওয়া হবে না। একটি সেতু দিয়ে ধউর থেকে আশুলিয়ার দিকে এবং অপরটি দিয়ে বিপরীত দিকে অর্থাৎ আশুলিয়া থেকে ধউরের দিকে যানবাহন যাতায়াত করবে।

এক্সপ্রেসওয়ের মূল নির্মাণকাজ চলার কারণে ওই এলাকায় যে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল, তা এই বিকল্প সার্ভিস সেতু চালুর ফলে অনেকাংশেই নিরসন হবে। নিচের মূল সড়কে যানবাহনের চাপ কমায় এখন মূল এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করে একসময় স্থবির হয়ে পড়া এই প্রকল্পের কাজ অত্যন্ত গতিশীল করেছে। গত ছয় মাসে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইউটিলিটি স্থানান্তরের মতো বড় চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে কাটিয়ে ওঠা গেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের আরেকটি বড় অংশের কাজ শেষ করার পাশাপাশি আগামী এক বছরের মধ্যে মূল প্রকল্পের কাজ প্রায় সমাপ্তির পর্যায়ে নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরো ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই মেগা প্রকল্প ২০২৮ সালের মধ্যেই সম্পূর্ণরূপে শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নির্মাণকাজের আন্তর্জাতিক মান ও চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগে চীনের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের রক্তের ও ঘামের টাকার সঠিক এবং অপচয়মুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অঙ্গীকার।
সভাপতির বক্তব্যে সেতু সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, তুরাগ নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা ও পানি প্রবাহ অক্ষুণ্ণ রেখে কারিগরি মান বজায় রেখে সেতু দুটি নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, গতিসীমা বজায় রাখা এবং অবৈধ পার্কিং না করার আহ্বান জানান। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পুরোপুরি চালু হলে তা শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহন এবং রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে।
