প্রবাসীদের যেকোনো আইনি জটিলতা ও সংকট নিরসনে অন্তত বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত আদালত গঠনের কথা ভাবছে সরকার। একই সঙ্গে প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হলে রেমিট্যান্সে ৩ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে রিফ্যুজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরূ) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এসব কথা জানান।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রবাসীদের আইনগত সুরক্ষা ও বিচারিক সেবা সহজ করতে বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত আদালত গঠনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
বর্তমানে শুধু সৌদি আরবেই প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করছেন। গত অর্থবছরে দেশটি থেকে প্রায় ৫৮৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা মোট প্রবাসী আয়ের ১৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সৌদি প্রবাসীরা ১.৯৫ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছে, যা দেশের মোট রেমিট্যান্স প্রবাহের ১৯.২ শতাংশ।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে সৌদিগামী ফ্লাইট ও আকাশপথের যোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ায় কয়েক হাজার প্রবাসী কর্মী ছুটি বা ছুটিতে এসে দেশে আটকা পড়েছেন। কবে ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে, কর্মস্থলে সময়মতো ফিরতে পারবেন কি না—এমন অনিশ্চয়তা ও বাড়তি খরচের ধাক্কায় রেমিট্যান্স যোদ্ধারা চরম বিপাকে পড়েছেন।
এই পরিস্থিতিকে ‘সাময়িক সমস্যা’ উল্লেখ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, দেশে আটকে পড়া কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরাতে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যেসব কর্মী কাজ হারিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হবেন, তাদের জন্য বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও আশ্বাস দেন, রিয়াদে আহত, ক্ষতিগ্রস্ত এবং দেশে আটকে পড়া কর্মীদের পাশে থাকবে সরকার। কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মীর পাওনা বা ক্ষতিপূরণ বকেয়া থাকলে তা আদায় এবং নিহতদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ডিপাক এলমার প্রবাসীদের অবদান তুলে ধরেন। এ সময় অন্যান্য আলোচকরা অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, রিক্রুটিং এজেন্সির অনিয়ম-প্রতারণা বন্ধ করা এবং সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে নতুন করে পুনর্বিন্যাস করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
