গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়া ছয় প্রার্থী ঘুম থেকে উঠে জানতে পারেন তারা আর নিজেদের নির্বাচনী এলাকার ভোটার নন। আসন্ন নির্বাচনে তারা সম্ভাব্য প্রার্থী হলেও তাদের এবার ভোট দিতে হবে অন্য ওয়ার্ডে। তাই নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশও নেয়াটাও জটিল হয়ে পড়েছে তাদের জন্য।
কিন্তু নিজেদের ভোটার ওয়ার্ড পরিবর্তনের জন্য কোন আবেদনও করেননি তারা। তবুও এমন অদ্ভুদ ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নে।
এই ঘটনায় জটিলতায় পড়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীসহ সাধারন ভোটাররা। বিষয়টি প্রকাশিত হলে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী নিজ ওয়ার্ডে ফিরতে পারলেও ক'জন আর সেই কাজটি করতে পারেননি।
স্থানীয় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, নিয়ম মেনেই ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছিলো। তবে এমটি কেন হয়েছে সেটি তিনি খতিয়ে দেখবেন।
আগামী ২৩ ডিসেম্বর চৌহালী উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীরা অনেকেই পোষ্টারও ছেপে ফেলেছেন। চালিয়ে যাচ্ছেন গণসংযোগ। চলছে উঠান বৈঠক। কিন্তু হঠাৎ করেই সম্ভাব্য প্রার্থীর কাছে খবর আসে তিনি যে ওয়ার্ডের বাসিন্দা, তিনি আর সেখানকার ভোটার নন।
অনেকে দৌড়ঝাপ করে আবার নিজ এলাকার ভোটার হিসেবে ফিরে যেতে পেরেছেন। এমন সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা অন্তত ছয়জন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন, ফরহাদ আলী এখনো তার ভোটার পুনঃস্থানান্তর করতে পারেননি। তাদের দাবী প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীরাই অফিসের সাথে যোগসাজস করে এমন কাজ করেছে।
ফরহাদ আলী বলেন, নির্বাচনে এমন কুটকৌশল তারা আগে কখনও দেখেননি। এবার নিজের ভোটই নিজকেন্দ্রে দিতে পারবেন কিনা সেটি নিয়েও শংকিত তিনিসহ এলাকার মানুষ।
বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশরাফ আলী জানান, তার স্বাক্ষর জাল করে কে বা কারা এটি করেছে। তা তিনি জানেন না। অপর এক ইউপি সদস্য আব্দুল আলিমও এর তদন্ত চান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, চেয়ারম্যান আর ইউপি সদস্যর প্রত্যয়নের পরই ভোটার স্থানান্তর করা হয়। এখানেও নিয়ম মানা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাথে কেন এমন হয়েছে তা তিনি খতিয়ে দেখবেন।
আসন্ন ইউনিয়ন নির্বাচনকে ঘিরে চৌহালীর অন্যান্য ইউনিয়নেও এমন ঘটনা ঘটেছে কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই সাথে দোষীদের শাস্তির দাবী জানিয়েছেন তারা।
একাত্তর/জো
