মাদারীপুরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্ত্রী, মেয়ে ও শাশুড়ি প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় আহত হয়েছে তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন। ওই তিনজনকে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং আহত অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে জেলার রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়নের মাচ্চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
হামলার শিকার যারা হয়েছেন তারা হলেন- বাজিতপুর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী তিশা আফরোজ (৩৫), মেয়ে প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২০) ও শাশুড়ি সীমা আক্তার (৫৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার দিন সিরাজুল ইসলাম হাওলাদারের স্ত্রী, মেয়ে, শাশুড়িসহ ৮ থেকে ১০ জন নারী নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন। তারা বিভিন্ন এলাকায় প্রচার শেষে মাচ্চর এলাকায় গেলে ওই ইউপির প্রতিদ্বন্দ্বি চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল হালিম ফকিরের সমর্থকরা তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে আধিপত্য ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে আবদুল হালিম আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। আমার লোকজন মাচ্চর, সুতারকান্দি, কোদালিয়া, নয়াকান্দি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে গেলেই হামলা শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি আমি প্রশাসনকে একাধিকবার জানালেও কোনো প্রতিকার পাইনি।
অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল হালিম ফকির বলেন, আমার লোকজন কোনো প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় নাই। সিরাজুল তার পরাজয় জেনেই আমার বিরুদ্ধে কথিত সব অভিযোগ দিচ্ছে। যার কোনো ভিত্তি নেই।
এদিকে হামলার শিকার ঢাবি শিক্ষার্থী প্রিয়াঙ্কা আক্তার বলেন, নির্বাচনে বাবার পক্ষে আজ প্রথম প্রচারে নেমেই হামলার শিকার হলাম। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।
আরও পড়ুন: বিদ্রোহীদের 'হাড্ডি ভেঙে দিতে' নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ সাদিক বলেন, নির্বাচনী এলাকায় আমাদের পুলিশি টহল আছে। বাজিতপুরের ঘটনাটি পুলিশ তাৎক্ষণিক গিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি, পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সম্পর্কে বাজিতপুর ইউপির রিটার্নিং কর্মকর্তা দীপক বিশ্বাস বলেন, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজু্ল ইসলাম আমাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেবো।
একাত্তর/এসি
