সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কফির চাষ। যার বীজ থেকেইতৈরি হয় জনপ্রিয় পানীয় কফি থেকে শুরু করে নানা পদের সুস্বাদু খাবার।
বর্তমানে বান্দরবানের পাহাড়ে আবাদ হচ্ছে বিদেশি এরাবিকা ও রোবস্টাজাতের কফি। কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, পাহাড়ের আবহাওয়া ও মাটি এই কফি চাষের উপযোগী।
কফি পানীয় হিসেবে বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বাংলাদেশেও কফি এখন জনপ্রিয়পানীয়। শহর ছাড়িয়ে গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে কফির জনপ্রিয়তা।
এদেশে যে কফি পাওয়া যায় তার বেশিরভাগ আমদানি করা। তবে আশার কথা, পার্বত্যাঞ্চলেচাষ হচ্ছে কফি। এর আবাদে ইতোমধ্যেই বান্দরবানের চাষিরা সফলতা পেয়েছেন।
চারা রোপনের দুই বছর থেকে ফলন দেয় কফি। তৃতীয় বছর দেয়া শুরু হয় ফল।একটি কফি গাজ সাধারণত ৭০ থেকে ৬০ বছর বাঁচে।
কফি গাছে ফুল আসে জানুয়ারিতে। সপ্তাহান্তেই ফলে পরিণত হয়। নভেম্বরেফল পাকে। ফল সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করতে হয়।
বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড় জুড়ে ছোট ছোট কফি গাছে এখন ফল এসেছে।চেরি বলে পরিচিত এই পাকা কফি ফল রোদে শুকিয়ে বীজ থেকে কফির পর্যায়ে আসতে লাগবে ১০-১৫দিন।
বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ২০১০ সাল থেকে পরীক্ষামূলক ভাবে কৃষি সম্প্রসারণঅধিদপ্তরের উদ্যোগে কফি চাষ শুরু হয়।
পাহাড়ের আবহাওয়া আর মাটি কফি চাষের উপযোগী হওয়ায় এখন অনেকেই বাণিজ্যিকভাবেঝুঁকছেন কফি চাষে, পাচ্ছেন সফলতাও। এক যুগে কফি চাষীর সংখ্যা এখন ৫৮৬ জন।
কফি চাষীরা জানান, শুস্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি পেলে এ কফির চারার সঠিকযত্ন নেয়া যায় আর এতে ফলন ভালো হয়, দাম পাওয়া যায় বেশি।
শুধু রুমা নয়, এরিমধ্যে জেলার চিম্বুক পাহাড়, লাইমি পাড়া, ফারুক পাড়া,কুহালং, রোয়াংছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়িসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে কফি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেনঅনেকেই।
বান্দরবান সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, কফি চাষ বাড়াতেকৃষকদের চারা, সার ও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
শুকানোর পর প্রতি কেজি কফি ৩২০-৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় আর এতেকৃষকরা ভালোই লাভবান হন।
তিনি জানান, বলছেন পার্বত্য বান্দরবানের মাটি ও জলবায়ু কফি চাষের জন্যউপযোগী হওয়ায় আরো বেশি পরিমান উন্নত জাতের কফি চাষ সম্ভব।
জেলাতে এ বছর ১৪৫ হেক্টর জমিতে কফি উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে৩০ মেক্ট্রিক টন। গত বছরই বান্দরবানে কফির উৎপাদন হয়েছে ২২ মেক্ট্রিক টন।
একাত্তর/এসএ
