সদ্য অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলন চলাকালে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনের দেয়া বক্তব্যের পর অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় সিরাজগঞ্জের যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতাকে অব্যাহতি দেয়ার পর সিরাজগঞ্জ যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এরা সবাই সিরাজগঞ্জ সদর-২ (সিরাজগঞ্জ-কামারখন্দ) আসনের এমপি ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্নার অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
আর সবশেষ ১০ ফেব্রুয়ারি যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও গত তিন বছরেও যুবলীগ পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি।
বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের নীতি-আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপের অভিযোগে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হককে সংগঠন থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন শাহজাদার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
দলের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সিরাজগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলন চলাকালে দলের সিনিয়র নেতাদের সামনে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণেই এ তিন নেতাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
আরও পড়ুন: প্রেমিক-প্রেমিকাকে দেখে ফেলায় খুন হয় শিশু লিজা
এদিকে ৮ তারিখে স্বাক্ষরিত কিন্তু ১০ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা, নেতৃত্বদানে অযোগ্যতা ও অদক্ষতার কারণে গঠনতন্ত্রের ধারা ২৩ মোতাবেক যুবলীগের সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এর ফলে সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক কেউই আর পদধারী নন।
এর আগে, সোমবার (৭ জানুয়ারি) একই অভিযোগে পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতিন ও সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাজুকে দলের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ওইদিন রাতে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নুরুল ইসলাম সজল ও সাধারণ সম্পাদক জিহাদ আল ইসলামের সই করা আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
উল্লেখ্য, রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন চলাকালে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বক্তৃতা করছিলেন। এসময় তিনি নতুন নেতা নির্বাচন বিষয়ে নানাদিক তুলে ধরেন।
তার বক্তব্য শেষ হলেই এমপি মুন্নার অনুসারীরা এস এম কামাল হোসেনের সেই বক্তৃতার বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের সামনেই হইচই ও হট্টগোল শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা মঞ্চের সামনে চলে আসেন।
পরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
