দখল, বালির স্তর আর পলি জমাটে শুকিয়ে যাওয়া নেত্রকোণার কংস নদীতে আবারো ফিরেছে পানি প্রবাহ। এরইমধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ খনন কাজ শেষ হয়েছে। জুনে শেষ হবে বাকি কাজ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারাবছর খননের ব্যবস্থা না রাখলে, উজানের পলিতে আবারও বন্ধ হবে এই পথ। এদিকে নদীর পাড়ে রাখা মাটির কারণে বর্ষায় জলাবদ্ধতার শঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
কংস নদী। ভারতের মেঘালয় ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীটি কংসাই বা কংসবতী নামেও পরিচিত। শিলং মালভূমির পূর্বভাগে তুরার কাছে গারো পাহাড়ে এ নদীর উৎপত্তি।
উৎস থেকে দক্ষিণদিকে প্রবাহিত হওয়ার পর জামালপুর জেলার উত্তর ভাগে নালিতাবাড়ী উপজেলা সদরের প্রায় ১৬ কি.মি উত্তর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
সেখান থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে সোমেশ্বরী নদীতে মিশেছে। কংস ও সোমেশ্বরীর মিলিত স্রোত বাউলাই বা ভোগাই নদী নামে পরিচিত।
ভোগাই- এই কংস নদীর নতুন রূপ এটি। গেল চল্লিশ বছরে পলি জমে অস্তিত্ব হারানো নদীটিতে প্রাণ ফিরেছে। নদীর জীবন বাঁচাতেই দুই পাড় জুড়ে চলছে মহা কর্মযজ্ঞ।
নদীটিতে আগের রূপ ফিরিয়ে আনতে খরচ হচ্ছে প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকা। এর সুফল পড়তে শুরু করেছে নেত্রকোণার জনপদে।
২২০ কিলোমিটার নদীটি খনন করতে বেগ পেতে হয়েছে বেশ। ছোট-বড় ১৮টি স্বল্প উচ্চতার সেতু আর দখল ছিলো মূল বাঁধা।
উজানের সোমেশ্বর আর ভাটির সুরমার সাথে যুক্ত হবে কংস-ভোগাই। নৌযান চলাচলের জন্য সারা বছর নদীটিতে প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট গভীর পানি রাখার পরিকল্পনা বিআইডাব্লিউটিএর।
যদিও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএস বলছে, উজান থেকে আসা পলির কারণে প্রবাহ ধরে রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
কংস-ভোগাই নদীর খনন হলেও দুশ্চিন্তা রয়েছে। নদীর দুই পাড়ে জমে থাকা মাটির স্তূপ না সরালে বন্যার কবলে পড়বে এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন: মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ধরা ৪৫ জেলে
নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নদীটির প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে নৌ-যোগাযোগের উন্নতির পাশাপাশি বাণিজ্যও বাড়বে।
কংস-ভোগাই নদী ফিরে আসলেও নেত্রকোণায় সরকারি হিসাবে ৫৭টি নদীর এখন আর অস্তিত্ব নেই।
একাত্তর/আরএ
