উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমির কাঁচা ধান তলিয়ে গেছে। প্রশাসন ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ধান কেটে নেয়ার কাজ করছেন কৃষকেরা।
তবে তারা বলছেন, এই অবস্থায় কাটা ধানের চালের মান ভাল হবে না। বোরো ধান পাকা হতে আরো কিছু দিন সময়ের দরকার ছিলো। কিন্তু পাহাড়ি ঢল সেটি হতে দিলো না।
মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে হঠাৎ করেই ধর্মপাশার চন্দ্র সোনারথাল হাওরের বেড়ি বাঁধ ভেঙে যায়। প্রবল বেগে পানি ঢুকে পড়ে হাওরে। তলিয়ে যায় ১৮৫ হেক্টর জমির বোরো ধান।
বছরের একমাত্র ফসল রক্ষায় শত শত কৃষক দিনরাত ওরা-কোদাল নিয়ে ওই বাঁধটি রক্ষা করার জন্য স্বেচ্ছাশ্রমে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেননি।
একই সময়ে শাল্লার পুটিয়া ও খৈয়াবন হাওরের বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় ৪০ হেক্টর জমির ধান। ফাটল দেখা দিয়েছে ছায়ার হাওরের বাঁধে।
কৃষকেরা বলছেন, শনিবার থেকেই পাহাড়ি ঢলে কানায় কানায় পূর্ণ ছিলো সুরমা, যাদুকাটা, বৌলাই, সোমেশ্বরী, ধনুসহ বিভিন্ন সীমান্তের নদ-নদী।
এতে করে দারুণ বিপদে ছিলো হাওরের ফসল। এখন সেসব পানিতে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় অনেকটা কাঁচা ধানই কেটে নিচ্ছেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, বাঁধ মেরামত কাজে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও সীমাহীন দুর্নীতির কারণেই আগাম বন্যায় এভাবে বাঁধটি ভেঙ্গে গেছে।
কৃষকরা জানান, এরই মধ্যে হাওরে পলি জমেছ তলদেশ উঁচু হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি হাওরের নদ নদীগুলোও ভরাট হয়ে হচ্ছে। যে কারণে অল্প পানিতেই প্লাবিত হচ্ছে হাওর ও নদী।
আরও পড়ুন: রংপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে দূরপাল্লার বাস বন্ধ, দুর্ভোগ
জেলার কৃষি কর্মকর্তা বিপ্লব চন্দ্র সোম জানিয়েছেন, তিন দিনে সাতটি হাওরের ৫০০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এই মুহূর্তে ধান কেটে নেয়া হলে সেই চালের মান খারাপ হবে।
পাহাড়ি ঢলের প্রথম ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব বাঁধ মেরামতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করছেন কৃষকেরা।
এবার চলতি বোরো মৌসুমে ধর্মপাশা উপজেলায় ৩১,৮৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে মঙ্গলবার বিকেলে ডুবাইল হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে এলাকার কৃষকের প্রায় ২০০ হেক্টর জমির আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে।
একাত্তর/আরএ
