পটুয়াখালীর দুমকিতে প্রকাশ্য দিবালোকে এক কলেজ শিক্ষককে অপহরণচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি সাবেক স্বামী সাইফুল্লাহ জাহান মানিকের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (১৮ মে) পটুয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এ আদেশ দেন।
বাদিপক্ষের কৌসুলী ও পিপি এডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম বাদল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার অপর আসামি মানিকের ভাই পুলিশ সদস্য আরিফুর রহমান ও মনির হোসেন জামিনে আছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, চলতি বছরের ১২ মার্চ বেলা সাড়ে ১২টায় পটুয়াখালীর লেবুখালী-বাউফল মহাসড়কের কলেজ গেইট এলাকা থেকে দুমকি এল এ এম ইউনাইটেড মহিলা কলেজের পদার্থবিদ্যা বিষয়ের প্রদর্শক তাহেরা আলী রুমাকে আসামিরা প্রকাশ্যে অপহরণ করে মাহেন্দ্রাযোগে পালানোর চেষ্টা করেন।
পথিমধ্যে শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. হুমায়ুন কবির মৃধাসহ স্থানীয় জনতার প্রতিরোধের মুখে ভুক্তভোগীকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান তারা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তাহেরা আলী রুমা বাদি হয়ে তার সাবেক স্বামী সাইফুল্লাহ জাহান মানিকসহ ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে দুমকি থানায় একটি অপহরণচেষ্টার মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর আত্মগোপনে থেকে দুই, তিন ও চার নম্বর আসামি জামিন পেলেও প্রধান আসামি অনুপস্থিত ছিলেন। পরে হাইকোর্টের শর্তসাপেক্ষ এক মাসের সময়সীমা শেষে বুধবার নিম্ন আদালতে হাজির হলে বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: ইস্পাত কারখানায় মালামালসহ ক্রেন পড়ে কর্মীর মৃত্যু
ভুক্তভোগী কলেজশিক্ষক তাহেরা আলী রূমা অভিযোগ করেন, কলেজের রুটিন ক্লাস শেষ করে বেলা সোয়া ১২টায় বাসার উদ্দেশ্যে কলেজ গেটে যাওয়ার পথে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা তার সাবেক স্বামী সাইফুল্লাহ জাহান মানিক ও তার ভাই আরিফের নেতৃত্বে ৭-৮জনের একটি দল তাকে টেনে হিঁচড়ে মাহেন্দ্রায় তুলে লেবুখালীর দিকে যাচ্ছিল।
এসময় তার চিৎকার শুনে উপজেলার থানা ব্রিজ এলাকার লোকজন ধাওয়া করে লালখা ব্রিজ এলাকায় অপহরণকারীদের মাহেন্দ্রা আটকে দিলে ধরা পড়ার ভয়ে তারা তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-ইমরানকে অবহিত করার পর দুমকি থানায় অপহরণচেষ্টার মামলার এজাহার দাখিল করেন।
তাহেরা আলী রুমা আরও জানান, দুই বছর আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে তার সাবেক স্বামী সাইফুল্লাহ মানিক নানাভাবে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। এ ব্যাপারে দুমকি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হলে আসামিরা তাকে অপহরণের চেষ্টা চালান।
একাত্তর/এসজে
