পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমামের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ও মিথ্যা ধর্ষণের চেষ্টার মামলা করে নিজেই ফেঁসে গেছেন জাহানারা বেগম নামে এক নারী। আদালতের নির্দেশে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করেছে।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহরের কলাতলা এলাকার বাসিন্দা জাহানারা বেগম তার দুই নাতিকে দিয়ে পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে চুরি করাতেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ১২ নভেম্বর তার দুই নাতি মডেল মসজিদে চুরি করতে ঢুকলে খাদেম সাব্বির ও শাহ আলম (৭০) নামের এক মুসল্লি তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে এশার নামাজের পর বিষয়টি মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. তানভিরুল ইসলামকে জানান। ইমামও ঘটনাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এবং সহকারী পুলিশ সুপারকে (সদর সার্কেল) জানান।
খবর পেয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় অভিভাবকের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে মসজিদ কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে পেশ ইমাম, মোয়াজ্জিন ও খাদেমদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগের পরিকল্পনা করেন জাহানারা বেগম। ঘটনার ১৫ দিন পর হাসপাতালের কাগজপত্র দেখিয়ে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।
আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। পিবিআই তদন্তকালে মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজ, নিরপেক্ষ সাক্ষীদের জবানবন্দি ও হাসপাতালের চিকিৎসকের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ধর্ষণের চেষ্টার কোনো সত্যতা পায়নি। গত ২৯ জুন আদালতে দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে পিবিআই উল্লেখ করে, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
পরে গত ২৮ জুলাই শুনানি শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়ের করে আদালতকে বিভ্রান্ত করা ও নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি করার অপরাধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় বাদী জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে বিবাদীপক্ষ জাহানারার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান জানান, আদালতের ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
