কোন ধরনের নিরাপত্তার কথা না ভেবেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে ফেসবুকে আগুনের ঘটনা লাইভ করতে গিয়ে সীতাকুণ্ডের ভয়াবহ আগুন ও বিস্ফোরণে প্রাণ দেন অলিউর রহমান নয়ন।
তার বাবা মা বলছেন, পরিবারের একমাত্র আয়ের মানুষটিকে হারিয়ে অসহায় তারা। কীভাবে তাদের আগামী দিনগুলো চলবে তা জানা নেই।
শনিবার চট্টগ্রামের অদূরে সীতাকুণ্ডে বিএম ডিপোতে আগুন লাগার খেবর ফেসবুক লাইভ করে সবাইকে জানানোর চেষ্টা করছিলেন তরুণ শ্রমিক অলিউর রহমান নয়ন।
নয়ন লাইভ শুরু করার পর আগুনের ঘটনা ভিডিও করছিলেন তারই বন্ধু রুহেল মিয়াও। দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলের অনেকটা কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ফেসবুকে লাইভ করছিলেন নয়ন।
কিছু সময় কথা বলছিলেন আবার কিছু সময় আগুন নেভানোর দৃশ্য দেখাচ্ছিলেন। তার লাইভের ৪০ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের মাথায় ডিপোর কনটেইনারগুলোতে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে।
লাইভে বিকট শব্দের সঙ্গে সঙ্গে ছিটকে পড়ে নয়নের মোবাইল ফোন। এরপর মোবাইল ফোনের পর্দা অন্ধকার। কেবল শোনা যাচ্ছিল মানুষের আর্তনাদ, ওই বিস্ফোরণে প্রাণ হারান নয়ন।
তবে দ্রুত দূরে সরে যাওয়ায় কারণে প্রাণে বেঁচে যান রুহেল। তিনি স্বীকার করেছেন তাদের এই ঝুঁকি নেয়া ঠিক হয়নি। তিনি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না তার সহকর্মী নয়নের কথা।
আর, নয়নের বাবা জানান, আগুন লাগার ঘণ্টা দুই আগে তার সাথে শেষ কথা হয় ছেলের। বাড়ির খরচ হিসাবে এক হাজার টাকাও দিয়েছিলেন মোবাইল অ্যাপে।
শুধু তাই নয়, ওই টাকা দিয়ে চাল, ডাল, মসলাসহ কিছু জিনিস কিনে বাড়িতে ফেরেন নয়নের বাবা আশিক আলী। পরের দিক সকালে ঢাকা থেকে ছেলের মৃত্যুর খবর দেন এক পরিচিত।
রোববার সেই নয়নের মৃতদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে আনা হয় তার মৌলভীবাজারের বাড়িতে। সেখানে তখন চলছে স্বজন হারানোর হাহাকার।
নয়নের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ফটিগুলি গ্রামে। তিনি ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম।
বাবা আশিক আলী দিনমজুর। তিনি বলেন, চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে নয়ন সবার বড়। কাজের খোঁজে বছরখানেক আগে নয়ন পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে সীতাকুণ্ডে চলে যান।
পরে বিএম কনটেইনার ডিপোতে কাজ নেন। প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা বেতন পেতেন। সেই থেকে বাড়িতে পাঁচ-সাত হাজার টাকা পাঠাতেন।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম নয়নকে হারিয়ে তাই চোখে অন্ধকার দেখছেন বাবা। জানেন না, আগামী দিনগুলো কিভাবে চলবে তার পরিবারের।
একাত্তর/এআর
