বিভিন্ন পদে জনবল না থাকায় নানা সংকট তৈরি হয়েছে একশ শয্যার ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে। অধিকাংশ সার্জনের পদ খালি থাকায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে কয়েকটি বিভাগের অস্ত্রপচারের কাজও। কোটি টাকার আলট্রসনোগ্রাম ও এক্সরে মেশিন কোনো কাজে লাগছেনা রোগীদের। আর হাসপাতালের জন্মলগ্ন থেকে অদ্যবদি নিরাপত্তা প্রহরীর পদ সৃষ্টি না হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা। জেলা সিভিল সার্জনের দাবী, সংকটের বিষয়গুলো বার বার উর্দ্ধতনদের লিখিতভাবে জানিয়েও ফল মিলছে না।
হাসপাতালটিতে ১২টি কনসালটেন্ট পদের বিপরীতে আছে চারজন। ইএনটি, শিশু, সার্জারী আর অর্থপেডিক্স এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের সার্জন না থাকায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে অস্ত্রপচারের কাজ। তাই খালি পড়ে থাকে সার্জারী বিভাগের বেড। এসব বিভাগের সেবা নিতে মানুষকে ছুটতে হয় অন্যত্র।
রোগীদের অভিযোগ, নানা সংকটের কারণে কাঙ্খিত সেবা পাননা তারা। কনসালটেন্টের অভাবে আলট্রাসনোগ্রাম ও এক্সরে এর মতো মেশিনগুলো কাজে লাগছেনা রোগীদের, তাই বাধ্য হয়েই উচ্চমূল্যে বাইরের ল্যাব থেকে পরীক্ষা নীরিক্ষা করাতে হচ্ছে তাদের। অপরিচ্ছন্নতার অভিযোগও রয়েছে রোগীদের।
দ্বায়িত্বরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার গণেশ কুমার আগরওয়ালা, জানান হাসপাতালটিতে ৩৭ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে আছেন ১১জন। অন্যান্য পদেও রয়েছে শূন্যতা। এতে রোগীদের কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত করা দুরূহ হয়ে দাড়িয়েছে। আর সেবিকাদের দাবী, নিরাপত্তা প্রহরীর পদ না থাকায় রাতে ঝুকি নিয়ে কাজ করতে হয় তাদের।
জেলার সিভিল সার্জন জানান, বিষয়গুলো বার বার উর্দ্ধতনদের লিখিতভাবে জানানো হলেও অদ্যবদি কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি জানান, নিরাপত্তা প্রহরীর পদও হাসপাতালের জন্মলগ্ন থেকে সৃষ্টি না হওয়ায় চুরি ছিতাইয়ের মুখোমুখী হতে হয় হাসপাতালে অবস্থানকারীদের। তবে, সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে পদগুলো পূরণ করা হলে কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯১৭ সালে তিন একর জায়গার উপর গড়ে ওঠে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল। জেলার নয়টি উপজেলার মানুষ এখান থেকে সেবা নিয়ে থাকেন। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ছয় শতাধিক মানুষ সেবা নিয়ে থাকেন। আর শত বেডের এ হাসপাতালটিতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কখনো কখনো আড়াইশতকেও ছাড়িয়ে যায়।
একাত্তর/এসএ
