নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় 'ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা' খাতের আওতায় ১৫ লাখ টাকা সরকারিভাবে বরাদ্দ এলেও তার প্রকল্প বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। সঠিক সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রকল্প বাস্তবায়ন না করায় বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত চলে গেছে সরকারি কোষাগারে। ফলে ১৫ লাখ টাকার কাজের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হলেন রাণীনগর উপজেলাবাসী। এ ঘটনাটি নিয়ে উপজেলায় চলছে নানা গুঞ্জন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো: আকবর হোসেন স্বাক্ষরিত গত ১ জুন এক বরাদ্দপত্রে ২০২১-২২ অর্থবছরের উন্নয়ন সংশোধিত বাজেটে “ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা” খাতের আওতায় ইউনিয়নের অনগ্রসরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং কোভিড-১৯ মোকাবেলায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রাণালয়ের মন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী নওগাঁ-৬ আসনের রাণীনগর উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বরাদ্দপত্রে বলা হয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ব্যবহার নির্দেশিকা অনুযায়ী কৃষি ও ক্ষুদ্র সেচ, বস্তুগত অবকাঠামো এবং আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা যাবে।
আরও বলা হয়, ওই বরাদ্দকৃত অর্থ স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে পরামর্শক্রমে প্রকল্প গ্রহণ করতে এবং বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ব্যবহার নির্দেশিকা-২০২১, পিপিআর ও সরকারি বিধি বিধান অনুসরণপূর্বক অনুমোদিত প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দকৃত এই অর্থ ব্যয় করতে হবে। আর এসবের জন্য উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি যৌথভাবে (প্রকল্প বাস্তবায়ন) আয়ন-ব্যায়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
জানা যায়, এই বরাদ্দ আসার পর বরাদ্দপত্রের আলোকে বরাদ্দের ১৫ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শ চাওয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে জুন মাসে নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলাল বরাদ্দকৃত অর্থের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য লিখিতভাবে কৃষি খাতে ৫ লাখ করে ১০ লাখ টাকার দুইটি প্রকল্প এবং আর্থ-সামাজিক খাতে ৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্পসহ মোট তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন।
এরপর তা বাস্তবায়ন করার কথা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। কিন্তু তারা এই বরাদ্দকৃত অর্থের টাকার কোনো প্রকল্পই বাস্তবায়ন করেননি। ফলে সঠিক সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করায় গত জুন মাসের ২৮ তারিখের পর বরাদ্দের ১৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত চলে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, উপজেলায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এই বরাদ্দকৃত অর্থের কোনো প্রকল্পই বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বরাদ্দের টাকাগুলো সরকারি কোষাগারে চলে গেছে। এতে করে বরাদ্দকৃত অর্থের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হলো রাণীনগর উপজেলা।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলাল বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন খাতের আওতায় রাণীনগর উপজেলায় উন্নয়নের জন্য জুন মাসে ১৫ লাখ টাকার বরাদ্দ আসে। সরকারিভাবে এসব বরাদ্দের টাকা আসার পরেও দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলায় ও গাফিলাতির কারণেই প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি।
এ সংসদ সদস্য আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে ক্ষতিয়ে দেখার জন্য জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাণীনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) শাহ মো: শহিদুল হক বলেন, জটিলতার কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হুসেইন বলেন, এ বরাদ্দের প্রকল্প সংক্রান্ত কোনো ফাইল আমার টেবিলে আসেনি বলে জানান তিনি।
একাত্তর/আরবিএস
