বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে দীর্ঘ এক যুগ ধরে বাবার বাড়িতে শিকল বন্দী অবস্থায় মৃত্যুর প্রহর গুনছেন রুমা বেগম নামের এক নারী। পারিবারিক আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে না তার। যে কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন ওই নারীর স্বজনরা।
ছোটবেলায় মাকে হারিয়ে সৎ মায়ের কাছেই পালিত হয় বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের চেঙ্গুটিয়া গ্রামের দিনমজুর মজিবর হাওলাদারের মেয়ে রুমা।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে পার্শ্ববর্তী গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামের সেকেন্দার হাওলাদারের ছেলে সেলিম হাওলাদারের সাথে বিয়ে দেয়া হয় তার। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবনে এক কন্যা সন্তান জন্ম নিলেও কিছুদিন পরই মারা যায় শিশুটি। সেই থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ করা শুরু করে রুমা।
কিছুদিন চিকিৎসা করানোর পর কিছুটা সুস্থ হয় সে। এরপর দ্বিতীয় পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণের পর থেকে রুমা আবারো অস্বাভাবিক আচরণ করা শুরু করেন। একপর্যায়ে পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পরে সে।
স্বামী রুমাকে ডাক্তার-কবিরাজ দেখিয়ে সুস্থ করতে না পেরে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। সেই থেকে বাবার বাড়িতেই মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় একটানা ১২ বছর যাবত শিকলবন্দী অবস্থায় রয়েছে রুমা। এমনকি চিনতে পারছে না নিজের একমাত্র পুত্র সন্তানকেও।
রুমার পালিত মা সালেহা বেগম জানান, মূলত ঘর থেকে বের হয়ে যাতে অন্যত্র হারিয়ে যেতে না পারে সেজন্য পায়ে শিকল বাঁধা হয়েছে। সাধ্যমত চিকিৎসা করানো হয়েছে।
এদিকে রুমার স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, রুমার স্বামী তার বাবার বাড়িতে তাকে রেখে যাওয়ার পর কিছুদিন চিকিৎসা করানো হলেও আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। রুমার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা কামনা করেছেন তারা।
আরও পড়ুন: অনলাইনে বদলির আবেদন করতে পারবেন প্রাথমিক শিক্ষকরা
আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বখতিয়ার আল-মামুন বলেন, উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে রুমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
আর্থিক সাহায্যের বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে অফিসে গিয়ে না পাওয়া গেলেও, রুমার উন্নত চিকিৎসার জন্য সার্বিক সহযোগিতার প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন।
একাত্তর/আরএ
