নীলফামারীতে উজানের পাহাড়ি ঢলে তৃতীয় দফায় হু হু করে বাড়ছে তিস্তার পানি। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। খুলে দেওয়া হয়েছে ৪৪টি জলকপাট। এদিকে ডুবে গেছে কয়েকশ’ হেক্টর ফসলের মাঠ, পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় দুই হাজার পরিবার।
মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুদ্দৌলা জানান, এদিন সকাল ৯টার পর ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানি আরও দুই সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ি, খগাখড়িবাড়ি, খালিশাচাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ি ইউনিয়নের ১৫টি চর গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় দুই সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মইনুল হক জানান, নদীর পানি বৃদ্ধিতে চরখড়িবাড়ি গ্রামে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বালুর বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার বিধ্বস্ত হয়েছে। বাঁধের ওই ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় দেড় শতাধিক বিঘা আমন ধান ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ইউনিয়নের প্রায় হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ খান বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। ইউনিয়নের পূর্বছাতনাই ও ঝাড়সিংহেরশ্বর চরের প্রায় হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
পাউবো’র নিবার্হী প্রকৌশলী আশরাফুদ্দৌলা বলেন, টেপাখড়ি ইউপির চরখড়িবাড়ি গ্রামের বিধ্বস্ত হওয়া স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত যে বালুর বাঁধটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নয়। এরপরেও ওই বাঁধের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একাত্তর/এসি
