চট্টগ্রামের ইপিজেড, বন্দর, পতেঙ্গা, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানিবাহিত রোগের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।
গত এক সপ্তাহে এসব এলাকা থেকে নারী-শিশুসহ ২০০'র বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগরীর যেসব এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় সেসব এলাকায় এ ধরণের রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।
পানিবাহিত রোগে অসুস্থ হয়ে গত তিন দিন ধরে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ১০ মাসের শিশু আবিদ।
আবিদের মত এ রকম আরও ১৭টি শিশুর চিকিৎসা চলছে একই হাসপাতালে। পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া, বমি ও খাবার খেতে না পারার লক্ষণ নিয়ে গত পাঁচ দিনে এসব শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
শিশুদের পাশাপাশি পানিবাহিত রোগের উপসর্গ নিয়ে গত এক সপ্তাহে বিআইটিআইডিসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ২০০ নারী পুরুষ। নগরীর ইপিজেড, পতেঙ্গা, হালিশহর, উত্তর আগ্রাবাদসহ সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় যেসব এলাকা সেখান থেকেই হাসপাতালে রোগী ভর্তি হচ্ছেন বেশি।
চিকিৎসকরা বলছেন, 'ভিব্রিও কলেরি' নামক কলেরা জীবাণুর সংক্রমণে এ রোগের প্রাদুর্ভাব হচ্ছে। রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণ অনুসন্ধানে কাজে করছেন আইইডিসিআর এর পাঁচ সদস্যের একটি দল।
বিআইটিআইডি'র সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশীদ জানান, 'ভিব্রিও কলেরি' নামক জীবাণু লবণাক্ত পানিতে বিকশিত হওয়ার ভালো সুযোগ পায়। সমুদ্রের লবণাক্ত জোয়ারের পানিতে আসা এই জীবাণু কোনোভাবে মানুষের খাবার পানিতে মিশে গিয়ে থাকলে সেখান থেকে কলেরার প্রাদুর্ভাব শুরু হতে পারে।
আরও পড়ুন: ডুবে যাওয়া ১১ ট্রলারের ১৭৩ জেলে উদ্ধার, এখনও নিখোঁজ ১৩৭
এসব পানিবাহিত রোগ থেকে বাঁচতে নিয়মিত ও সঠিক উপায়ে হাত ধোয়াসহ নিরাপদ পানি পানের পরামর্শ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, এর ২০১৮ সালের এপ্রিল-মে মাসে হালিশহর, আগ্রাবাদ ও ইপিজেড এলাকায় হেপাটাইটিস রোগের সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল।
একাত্তর/এসজে
