ঢাকার কাছে সাভারের আশুলিয়ায় এক তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর ঘটনার শিকার তরুণীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।
আশুলিয়া সিএন্ডবি বাইপাস সড়কে শুক্রবার (২৮ মে) রাত সাড়ে দশটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে টহল পুলিশ তরুণীকে উদ্ধার ও বাসটি জব্দ করে।
শনিবার (২৯ মে) সকালে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুর রশিদ একাত্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের চার দিনের রিমান্ডে চেয়ে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঢাকার তুরাগ থানার গুলবাগ ইন্দ্রপুর ভাসমান গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আরিয়ান (১৮), কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার তারাগুনা এলাকার আতিয়ারের ছেলে সাজু (২০), বগুড়ার দুপচাচিয়া থানার জিয়ানগর গ্রামের শামসুল মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪০), একই জেলার ধুনট থানার খাটিয়ামারি এলাকার সুলতান মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (২৪), একই এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সোহাগ (২৫), নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ধামঘর এলাকার জহুর উদ্দিনের ছেলে মনোয়ার (২৪)।
তারা সবাই তুরাগ থানার কামারপাড়ায় ভাড়া বাসায় থেকে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল-নবীনগর মহাসড়কে চলাচলরত পরিবহনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।
২২ বছর বয়সী এই তরুণী শুক্রবার রাতেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।
আরও পড়ুন: সিলেটে এক ঘণ্টায় চারবার ভূমিকম্প
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই তরুণী মানিকগঞ্জের বোনের বাসা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বাসে ওঠেন। রাত ৮টার দিকে আশুলিয়ার নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে নেমে তিনি অন্য বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সে সময় পূর্বপরিচিত নাজমুল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার দেখা হয়। তারা দু’জন রাত ৯টার দিকে নিউগ্রাম বাংলা মিনিবাসে ওঠেন। বাসটি কিছুদূর যাওয়ার পর গন্তব্যের আগেই সব যাত্রীদের নামিয়ে দেয় বাসের শ্রমিকরা। কিন্তু তারা ওই তরুণীকে বাস থেকে নামতে না দিয়ে আবার নবীনগরের দিকে ফেরেন এবং দলবেঁধে ধর্ষণ করেন বাসের চালক সুমন, সহকারী মনোয়ার ও সুপারভাইজার সাইফুল ইসলামসহ ছয়জন।
এ সময় তরুণীর সঙ্গী নাজমুল চিৎকার করলে টহল পুলিশ রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে বাস থামিয়ে তাকে উদ্ধার করে। গ্রেপ্তার করে ছয়জনকে। জব্দ করা হয় বাস।
একাত্তর/আরএ
