কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) সামনে অপারেশন চলাকালীন অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনসহ দুইজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) বিষয়টি জানাজানি হয়।
জানা গেছে, নিহত রোগীর নাম শিরিন বেগম (৫২)। তিনি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শীলমুড়ি ইউনিয়নের ফলকামুড়া গ্রামের তাজুল ইসলামের স্ত্রী। অপারেশন থিয়েটারের সামনে থাকা ওই রোগীর ছেলে সাইফুল ইসলাম ও এক অ্যাম্বুলেন্স চালক আহত হয়েছেন। আহত চালককে শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
নিহত রোগীর ছেলে সাইফুল ইসলাম জানান, বুধবার রাতে তার মায়ের ডায়াবেটিসে পায়ের ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পা কেটে ফেলার জন্য অপারেশন চলছিল। ওটিতে নেয়ার পর তাকে ওখানকার ডাক্তারের সহযোগীরা বাইরের অ্যাম্বুলেন্স থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে আনতে বলেন। তিনি ৭০০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনে আনলে তা থেকে অক্সিজেন সাপ্লাই হচ্ছিল না। তখন অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার ও তার সহযোগী মিলে ওটির সামনে তা ঠিক করার একপর্যায়ে বিস্ফোরণ ঘটে। তখন পুরো অপারেশন থিয়েটার অন্ধকার হয়ে যায়। এতে তার দুই হাত ও মুখ ঝলসে যায়। অ্যাম্বুলেন্সের চালকসহ দুইজন গুরুতর আহত হন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এসময় আতঙ্কে ডাক্তাররা তার মায়ের কেটে ফেলা পায়ের ক্ষত সেলাই ও ব্যান্ডেজ না করেই চলে যান। রক্তক্ষরণ হতে হতে তার মায়ের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: শ্যালকের বিরুদ্ধে দুলাভাইকে খুনের অভিযোগ
কুমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাজেদা খাতুন বলেন, অক্সিজেন সিলিন্ডারটি রোগীর লোকেরা বাইরে থেকে এনেছে। ওটির সামনে সিলিন্ডারের মুখ খোলার সময় অক্সিজেন জোরে বের হওয়াতে তারা আহত হয়েছেন। তবে হাসপাতালের ডাক্তার বা নার্স কেউ আহত হননি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপারেশন থিয়েটারে কোন কিছুই হয়নি। হাসপাতালেরই তো অক্সিজেন ব্যবস্থা আছে। তাহলে হাসপাতালের কর্মরতরা বাইরে কেন অক্সিজেনের জন্য পাঠাবে! ওরা নিজেরাই নিয়ে এসেছে অক্সিজেন সিলিন্ডার। এছাড়া ওই রোগীর মৃত্যুর সাথে বিস্ফোরণের কোন সংযোগ নেই। ওই রোগী শকে ছিলেন। তাই তাকে দ্রুত আইসিইউতে নেয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
একাত্তর/জো
