দেশজুড়ে নানা আনুষ্ঠানিকতা ও যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপিত হচ্ছে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। এই দিনে খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট এ দিনে ফিলিস্তিনের বেথেলহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
বাংলাদেশের খ্রিস্ট ধর্মানুসারীরা যথাযথ ধর্মীয় আচার, আনন্দ উৎসব ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন।
রোববার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই খ্রিস্ট সম্প্রদায়ের মানুষ আসতে শুরু করেছেন গির্জাগুলোতে। বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে খ্রিস্টান পল্লীগুলোকে। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বাইবেল পাঠের মাধ্যমে স্মরণ করা হচ্ছে যিশুখ্রিস্টকে।
'যুদ্ধ নয় শান্তি'- এই বার্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বড়দিনে প্রার্থনা করছেন বরিশালের খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা। রোববার সকাল আটটা থেকে এই প্রার্থনা শুরু হয়েছে।
শহরের অক্সফোর্ড, ক্যাথলিক ও ব্যাপটিস্ট সম্প্রদায়ের গীর্জাগুলো বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। বেথলেহেমে যীশুর আবির্ভাবের সময় আকাশে যে তারা উঠেছিল সেই আদলে নির্মিত তারা থেকে মাদার মেরীর প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো হয়েছে অঙ্গন।
নগরীর সদর রোডের সেন্ট পিটারর্স ক্যাথিড্রাল চার্চের ফাদার লাজারু গোমেজ প্রার্থনায় বলেন, 'আমরা একে অপরের সহযোগিতা নিয়ে ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ হোক পৃথিবীর সকল মানুষ শান্তিতে বাস করুক এই কামনা করছি। আমরা জয়ী হয়ে সামনে এগিয়ে যাবো। বেড়ে ওঠা শিশুরা মানব কল্যাণে কাজ করবো।'

প্রার্থনা শেষে শিশু-কিশোর থেকে সব বয়সের মানুষেরা বিশেষ ভোজ এবং উৎসবে অংশ নেবে।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রার্থনা আর নানা আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে খুলনায় খ্রিস্টধর্মের অনুসারীরা উদযাপন করছেন শুভ বড়দিন। করোনার প্রকোপ না থাকায় এবার পরিপূর্ণভাবেই মানুষ বড়দিনের উৎসবে সামিল হতে পারছেন বলে খুশি খ্রিস্টধর্মের অনুসারীরা।
খুলনার বিভিন্ন গির্জায় সকালেই বসেছিলো প্রার্থনা সভা। সেখানে মানবজাতির শান্তি আর সুখের প্রত্যাশায় প্রার্থনা করা হয়।

গীর্জায় আগত খ্রিস্টধর্মের অনুসারীরা বলেন, যিশুর মুল বানী হচ্ছে মানবসেবা আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা। সকলেই যদি এই বানী মেনে চলে তাহলে ধরণীতে শান্তি বজায় থাকবে।
সারাদেশের মতো খাগড়াছড়িতেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে উদযাপন করা হচ্ছে বড়দিন। এ উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে প্রতিটি গীর্জায় চলছে দেশজাতি তথা সকলের মঙ্গল কামনায় ধর্মীয় প্রার্থনসহ নানা ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান।

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা বলেছেন, এই দিনে প্রভু যিশু মানুষরূপে পৃথিবীতে এসে মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন। এই দিনটি তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর তারা এই দিনে অপেক্ষায় থাকেন।
নানা আয়োজনে বান্দরবানে পালিত হচ্ছে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বড়দিন, বড়দিন উপলক্ষে সকাল থেকে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা মেতে উঠেছে নানা উৎসবে।
রাত ১২ টা ১মিনিটে প্রার্থনার মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন শুরু হয়। বড়দিনকে ঘিরে সকাল থেকে জেলা সদরে ব্যাপটিস্ট গীর্জা ও ফাতিমা রানী ক্যাথলিক গীর্জা, কালাঘাটা ত্রিপুরা পাড়া গীর্জায় আয়োজন করা হয় সমবেত প্রার্থনা।
সকাল থেকেই খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী শিশু নারী ও পুরুষেরা সমবেত প্রার্থনায় মিলিত হয়ে আগামী দিনের অনাগত সুখের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করে, প্রার্থনায় আত্মশুদ্ধির মধ্য দিয়ে নতুন বছরের সুখ শান্তির প্রত্যাশা করে সকলে। এসময় খ্রিষ্ট ভক্তরা যীশুর পথ নির্দেশনা অনুযায়ী সকলকে একসাথে সুন্দরভাবে পৃথিবীতে বসবাসের আহবান জানান।

সমবেত প্রার্থনা শেষে সকলে মিলে মিলিত হন যীশুর আরাধনায় সমবেত সঙ্গীতানুষ্ঠানে। এসময় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা সমবেত সংগীতের মধ্য দিয়ে যীশুর বিভিন্ন দিক নির্দেশনা তুলে ধরেন। প্রার্থনা প্রদান করেন বান্দরবান ফাতিমা রানী ক্যাথলিক গীর্জার পাল-পুরোহিত ফাদার বিনয় সেবাস্টিয়ান গোমেজ সিএসসি।
লক্ষ্মীপুরেও নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। মধ্যরাতে জেলা শহরের বাগবাড়ীস্থ সেন্ট জোসেফ গীর্জায় বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিবসটির শুভ সূচনা করা হয়। প্রার্থনা পাঠ করেন ফাদার জেরোম ডি রোজারিও।
এছাড়া সারাদিন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা একে অন্যের বাড়িতে শুভেচ্ছা বিনিময় করে যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন পালন করবেন।

বড়দিনের প্রার্থনায় শরিক হয়েছেন নারী-পুরুষ, শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ। তারা অভিন্ন কণ্ঠে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন। এ উপলক্ষে গির্জা আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।
মেহেরপুরে গির্জায় গির্জায় উদযাপিত হচ্ছে বড়দিন। ধর্মীয় আচার মেনে সারাদিন বিভিন্ন গির্জায় চলবে প্রার্থনা অনুষ্ঠান। বড়দিন উপলক্ষে নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি এসেছেন অনেকেই।

সকাল থেকেই খ্রিস্টীয় সম্প্রদায়ের মানুষ আসতে শুরু করেছে গির্জাগুলোতে। যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ করে শান্তিময় বিশ্বের প্রার্থনা করেন তারা। প্রার্থনা ছাড়াও মেলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন আয়োজন করা হয়েছে বড়দিন উপলক্ষে।

এদিকে বাগেরহাটের ফকিরহাটে কেক কাটা ও প্রার্থনা সভার মধ্য দিয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব যিশু খ্র্রিস্টের জন্মদিন শুভ বড়দিন উদযাপিত হয়েছে।
রোববার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে কলকলিয়া আর্শীবাদ এজি স্কুল ও হোপ সেন্টারে কেক কেটে বড়দিন উদযাপন করা হয়। এসময় একে অপরকে কেক খাইয়ে দেন। এ উৎসবে শিশুসহ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নানা বয়সের মানুষ যোগ দেন। পরে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে আয়োজন করা হয় প্রার্থণা সভার।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কলকলিয়া আর্শীবাদ এজি স্কুল ও হোপ সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পালক শ্যামূয়েল সরকার তরুণ, প্রধান শিক্ষক মাধুরী মণ্ডল, শিক্ষক অমলেন্দু বিশ্বাস, সন্তোষ কুমাল মণ্ডল, নিউটন মানিক প্রমুখ।
কলকলিয়া আর্শীবাদ এ.জি স্কুল ও হোপ সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পালক শ্যামূয়েল সরকার তরুন বলেন, বড়দিন উপলক্ষে পবিত্র ধর্মগ্রস্থ বাইবেল পাঠ করা হয়। দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে প্রার্থণা করা হয়েছে। এছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
একাত্তর/এসেজে
