নারায়ণগঞ্জে বিপাকে পড়া ব্যবসায়ী খাদ্য সহায়তা চেয়ে ফোন করার পর তাকে ১০০ জনকে ত্রাণ বিতরণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাধ্য করার ঘটনায় গঠন করা তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। প্রতিবেদনে ইউএনওকে দোষী নয় সতর্ক করা হয়েছে। স্থানীয় মেম্বারের ভুল তথ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।
শুক্রবার (৪ জুন) রাতে সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ প্রতিবেদন দাখিলের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, স্থানীয় ইউপি মেম্বার আইয়ুব আলী ভুল তথ্য দিয়েছেন। ত্রাণ সহায়তা চাওয়া ফরিদ আহমেদের ব্যাপারে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি এ ইউপি মেম্বার।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাকে আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল। স্থানীয় মেম্বারের ভুল তথ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: করোনায় বেড়েছে ভারত থেকে অনুপ্রবেশ, পাঁচ মাসে আটক ৯ শতাধিক
পাঁচ পৃষ্ঠার ওই তদন্ত প্রতিবেদনে ৩১টি সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ইউএনওকে ভবিষ্যতে ‘৩৩৩’ ফোনের ক্ষেত্রসহ সেবা গ্রহীতা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতে শুধু স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ওপর নির্ভর না করে এলাকার মুক্তিযোদ্ধা, মসজিদের ইমাম এবং প্রয়োজনবোধে গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ইউএনওকে দোষী নয় সতর্ক করা হয়েছে। কারণ ঘটনার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি যথাযথভাবে তথ্য দিতে না পারাকেই দায়ি করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সেবা গ্রহীতার আর্থিক সংগতির বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। তাই ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদেরকে আরও সতর্ক হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আগামী রোববার (৬ জুন) প্রতিবেদনটি জমা দেয়ার কথা ছিল। তদন্ত কাজ শেষ করতে পারায় তদন্ত কমটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম ব্যাপারী নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদনটি জমা দিয়ে দিয়েছেন।
মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, আমরা প্রতিবেদনটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। যেহেতু প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা কাশীপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বারকে ঘটনার জন্য দায়ি করা হয়েছে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে, পরবর্তী সময়ে সেভাবেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরও পড়ুন: কাজে আসছে না পটুয়াখালী শহর রক্ষা বাঁধ
তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে কাশীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আইয়ুব আলীর মন্তব্যের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। শুক্রবার থেকে শনিবার রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লিখার পর্যন্ত আইয়ুব আলীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
একাত্তর/আরএ
