কুড়িগ্রামে কয়েকদিনের টানা দাবদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। প্রচণ্ড দাবদাহে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। রোদ ও মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারণে জেলার পোল্ট্রি খামারগুলোতে হিট স্ট্রোক দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত গরম সহ্য করতে না পেরে প্রতিদিন হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে শত শত মুরগি।
দাবদাহ থেকে মুরগি বাঁচাতে অনেক খামারে বৈদ্যুতিক পাখা সংযুক্ত করলেও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সেটিও কাজে আসছে না। ফলে পোল্ট্রি খামারে বড় ধরণের লোকসানের আশঙ্কা করছেন খামারিরা।
বুধবার কুড়িগ্রাম সদরের একাধিক ব্রয়লার মুরগির খামারে গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। হিটস্ট্রোকে পোল্ট্রি মুরগি মারা গেলেও প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে কেউ খামারিদের কাছে যাচ্ছে না বলে অভিযোগ খামারিদের।
জেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, জেলার ৯ উপজেলায় লেয়ার, ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির খামার রয়েছে ১ হাজার ৪৩২টি। এর মধ্যে নিবন্ধিত খামার ২১১টি এবং অনিবন্ধিত খামার ১ হাজার ২২১টি। এসব খামারের মধ্যে ব্রয়লার মুরগির নিবন্ধিত খামার রয়েছে ১৭৪টি ও অনিবন্ধিত ১ হাজার ১৯টি। অতিরিক্ত গরমের কারণে সব খামারেই মুরগিরা হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের তালুককালোয়া গ্রামের খামারি শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রায় ২৮ দিন আগে ৩ হাজার ৫০০ ব্রয়লার মুরগী খামারে তুলেছিলেন তিনি। বর্তমানে প্রতিটি মুরগি দুই কেজির কাছাকাছি হয়েছে। ঈদের সময় বিক্রি করে দেওয়া পরিকল্পনা ছিল কিন্তু অতিরিক্ত গরম ও লোডশেডিং এর কারণে হিটস্ট্রোক প্রতিদিন মুরগি মারা যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে প্রতিদিন যে হারে মুরগী মারা যাচ্ছে তাতে খরচও উঠবে না। দুদিনে খামারের ৪০টি মুরগি হিটস্ট্রোকে মারা গেছে বলে তিনি জানান।
সদরের হরিশ্বর কালোয়া গ্রামের ব্রয়লার খামারি মেহেদি হাসান বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড গরমের কারণে হিটস্ট্রোক শুরু হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০টি করে মুরগি মারা যাচ্ছে। কোনভাবেই হিটস্ট্রোক থেকে মুরগিকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সবসময় ফ্যান চালানো যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে লোকসান কোথায় ঠেকবে বলা মুশকিল।’
পোল্ট্রি খামারিরা বলছেন, শুধু হিট স্ট্রোক নয়, অতিরিক্ত দাবদাহের কারণে ব্রয়লার মুরগির পাতলা পায়খানা দেখা দিয়েছে। এতে করে আক্রান্ত মুরগি দুর্বল হয়ে পড়ছে। নিয়মিত ভ্যাকসিন ও মেডিসিন প্রয়োগ করার পরও এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ মেলেনি। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে কেউ কোন ধরনের পরামর্শ দিতেও আসেনি বলেও তারা জানান।
আরও পড়ুন: খোপে ঢুকে সাত মুরগী সাবাড়ের পর অজগর আটক
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ইউনুছ আলী বলেন, ‘কুড়িগ্রামের প্রত্যেক উপজেলায় আমাদের প্রাণী চিকিৎসকগণ খামারিদের বিভিন্ন ধরণের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে খামার ঘরের ছাদ কিংবা টিনের চালার উপর ভেজা চট দিলে উপকার পাওয়া যাবে। আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রচারণা চালাচ্ছি।’
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, কুড়িগ্রামে এ সপ্তাহের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম ও তার আশে পাশের তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এরকম দাবদাহ আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
একাত্তর/এসজে
