নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় লালন সংগীতের আখড়াবাড়ি পুলকিত আশ্রমে সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আশ্রম এবং বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর করে সন্ত্রসীরা। এ ঘটনায় তিনজন বাউল শিল্পী আহত হন।
রোববার বিকেলে উপজেলার পাটুলি ইউনিয়নের ভাবলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তুমুল নিন্দা জানাচ্ছেন বিশিষ্টজনরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ভাবলা গ্রামে লালন সংগীতের আখড়াবাড়ি পুলকিত আশ্রমের প্রতিষ্ঠা করেন জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া। তার সঙ্গে পূর্ব শত্রুতা ছিল হামলাকারী শেখ জাহাঙ্গীর এবং শাহীনের। তারা তিনজন সম্পর্কে চাচাতো-মামাতো ভাই।
আশ্রমের বাউলরা জানায়, সোমবার পুলকিত আশ্রমে সাধুসঙ্গের দিন ধার্য ছিলো। সে উপলক্ষে সারা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাধু-ফকির, বাউল শিল্পীরা আগে থেকেই আশ্রমে উপস্থিত ছিলেন। রোববার দুপুরে শেখ জাহাঙ্গীর এবং শাহীনের নেতৃত্বে ৫ থেকে ৬ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রসহ জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়াকে খুঁজতে আশ্রমে আসেন। জাহাঙ্গীরকে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা আশ্রমে হামলা শুরু করলে তাদের বাঁধা দেন বাউল শিল্পীরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আগত শিল্পীদের ওপর হামলা চালায় তারা। এ সময় শেরপুর জেলার মিন্টু বাউল (৩০), খুলনার রিয়াদ ভূঁইয়া (৩২) ও কিশোরগঞ্জের খোকন বাউল (৪০)। আহত হয়েছেন। তাদের সঙ্গে থাকা তনপোড়া, দোতারাসহ সব বাদ্যযন্ত্র ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে লালন সংগীতকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করছেন কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লালন শিল্পীরা। তারা বলেন, হামলাকারী কাউকে আমরা চিনি না। আমরা এখানে গান করছিলাম। হঠাৎ তারা এসে আমাদের মারধর করেন এবং আমাদের যন্ত্র ভেঙ্গে দেয়। আমরা এর বিচার চাই।
কুষ্টিয়া থেকে লালন আখড়া ধামে আসা আলম নামে এক বাউল বলেন, হঠাৎ করেই কয়েজন লোক এসে আমাদের সব বাউলদের নোংরা ভাষায় গালাগালি শুরু করে। আমাদের গান বাজনা বন্ধ করতে বলে। এক পর্যায়ে লাঠিসোটা নিয়ে এলোপাথাড়ি মারতে থাকে। আমার কয়েকজন বাউল এতে আহত হয়েছি। আমাদের দোষটা কোথায়? গান গাউয়াটা কি অপরাধ!
আরও পড়ুন: নতুন এক গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কারের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ
পুলকিত আশ্রমের দায়িত্বে থাকা জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া বলেন, এখানে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে অনেক বাউল প্রেমী এবং সংগীত প্রেমী মানুষ এসে গান বাজনা করেন। গতকাল সন্ত্রাসীরা দেশিয় অস্ত্রসহ আশ্রমে এসে লালন সংগীতের শিল্পীদের বাদ্যযন্ত্র ভাংচুর এবং শিল্পীদের উপর হামলা করে তিন জনকে আহত করা হয়েছে। আমি এর দৃষ্টান্ত শাস্তি দাবি করি।
বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তানভীর আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, আগে থেকেই জাহাঙ্গীর ভুইয়া এবং শেখ জাহাঙ্গীরের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। তার জের ধরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এই ঘটনাটি উস্কানিমূলক কোনো বিষয় কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। তবে আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নিবো।
একাত্তর/আরবিএস
