জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অভিনব কায়দায় চলছে এতিমদের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ। শিক্ষার্থীদের জীবিত বাবকে মৃত দেখায় রামভদ্রপুর দারুস সুন্নাহ এবতেদায়ি কওমি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা। সেই শিক্ষার্থীদের নামে আসা অর্থ আত্মসাৎ করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
কমপক্ষে ৩৩ শিক্ষার্থীর জীবিত পিতাকে মৃত দেখানোর প্রমাণ পেয়েছে সমাজ সেবা অধিদপ্তর। মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ভুয়া এতিম বানিয়ে সরকারি বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর ওই প্রতিষ্ঠানে চলতি বছরের সরকারি বরাদ্দ আটকে রাখা হয়েছে।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রামভদ্রপুরে আছে দারুস সুন্নাহ এবতেদায়ি কওমি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা। ধর্ম শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানে চলছে অধর্মের কাজ কারবার। জীবিত পিতাকে কাগজে-কলমে মেরে ফেলে শিশু শিক্ষার্থীদের এতিম দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয় তাদের নামে আসা সরকারি টাকা। এমনি তিন শিশু শিক্ষার্থী আজমীর হোসেন, তানজিমুল আর আবু তালহা।
সমাজসেবা অধিদপ্তর বলছে, এতিমখানার এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা করে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দের টাকার মধ্যে খাদ্য বাবদ ১ হাজার ৬০০ টাকা ও পোশাক বাবদ ২০০ টাকা, ওষুধ ও অন্যান্য বাবদ ২০০ টাকা।
জয়পুরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলার ২৬টি বেসরকারি এতিমখানার ৪১৪ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৪৯ লাখ ৬৮ হাজার বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে দারুস সুন্নাহ এবতেদায়ি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা এবং এতিমখানার ৪৩ জন এতিম শিক্ষার্থীর জন্য ৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
এই টাকা আত্মসাতের জন্য কমপক্ষে ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে কাগজে-কলমে এতিম বানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। সমাজসেবা কর্মকর্তা দেখতে পেয়েছেন, ৪৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩ জনের বাবাকে জীবিত। তবে এতোগুলো মৃত্যুসনদগুলো কীভাবে আসলো, সেটি জানেন না তিনি।
বাগজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান বলেন, জীবিত মানুষের মৃত্যুসনদগুলো জাল। সরেজমিন তদন্ত ও অনলাইনে মৃত্যুসনদ যাচাই করে মাত্র ১২ জন শিক্ষার্থীর বাবার মৃত্যু সনদ পাওয়া গেছে। ৩৩ জন শিক্ষার্থীর বাবা জীবিত রয়েছেন। এই ৩৩ জন শিক্ষার্থীর বাবার ভুয়া মৃত্যুসনদ তৈরি করা হয়েছে।
এমন দুর্নীতির কথা স্বীকার করেছেন মাদ্রাসার মুহতামিম আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, মাদ্রাসা কমিটির সভাপতির সই ছাড়া কোন কাজ হয় না, তবে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সভাপতি ইউনুছ আলী।
জয়পুরহাটের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইমাম হাসিম বলেন, ওই মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বেশকিছু শিক্ষার্থীর বাবা জীবিত আছেন। কিন্তু তাঁদের ভুয়া মৃত্যুসনদ দিয়ে এতিম বানানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত চলছে। এ কারণে চলতি বছরের ওই মাদ্রাসার এতিমদের নামে আসা বরাদ্দ ছাড় করা হয়নি।
