দেশে প্রথমবারের মতো সাগর তলদেশ দিয়ে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জাহাজ থেকে সরাসরি জ্বালানি তেল খালাসের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তদারকিতে সৌদি আরব থেকে ৮২ হাজার মেট্রিক টন তেল নিয়ে আসা ‘এমটি হোরেই’ জাহাজকে মহেশখালীর মাতারবাড়ীর গভীর সাগরে স্থাপিত ভাসমান জেটি বা সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিংয়ে ভেড়ানো হয়।
পরে সেখান থেকে সাগরের তলদেশ দিয়ে ১১০ কিলোমিটার লম্বা পাইপলাইনের মাধ্যমে মহেশখালী ও আনোয়ারা হয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে তেল খালাসের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বছরে দেশের ৮০ থেকে হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের সীমাবদ্ধতার জন্য কর্ণফুলী নদীতে তেল খালাসের বিশেষায়িত জেটিতে বড় ট্যাংকার ভিড়তে পারে না। তাই জ্বালানি তেল নিয়ে আসা বড় ট্যাংকার থেকে গভীর সাগরে ছোট ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল স্থানান্তর করে জেটিতে এনে তেল খালাস করা হতো। এতে তেল খালাসে ১০–১১ দিন সময় লাগতো।
আরও পড়ুন: ভারত থেকে আমদানির পর আকাশ থেকে মাটিতে কাঁচা মরিচ
সনাতন পদ্ধতিতে তেল খালাসে খরচ ও সময় বেশি লাগায় ২০১৫ সালে ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং’ বা ভাসমান জেটি নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রায় আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড। বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। নতুন প্রকল্পে পাইপলাইনের মাধ্যমে মাত্র দুই দিনের মধ্যে প্রায় এক লাখ টন জ্বালানি তেল খালাস সম্ভব হবে। এতে সাগরের পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বছরে সরকারের শত শত কোটি টাকা অর্থ সাশ্রয় হবে বলেও জানান এই বন্দর কর্মকর্তা।
একাত্তর/এসি
