রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে একদিনে আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাদের মধ্যে আটজনের করোনা পজেটিভ ছিলো। বাকিরা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
শনিবার (২৬ জুন) রামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, শুক্রবার (২৫ জুন) সকাল ৬টা থেকে শনিবার (২৬ জুন) সকাল ৬টার মধ্যে বিভিন্ন সময় মারা যাওয়াদের মধ্যে নয়জন রাজশাহীর। বাকিদের মধ্যে চাঁপাইনবাগঞ্জের চারজন, নাটোরের দুই ও নওগাঁর দুইজন।
করোনায় মৃত ১৭ জনের মধ্যে রয়েছেন আটজন পুরুষ ও নয়জন নারী। পাঁজনের বয়স ৬১ বছরের উপরে। বাকিদের মধ্যে, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সের দুইজন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন নারী মারা যান।
এ নিয়ে চলতি মাসের গত ২৬ দিনে (১ জুন সকাল ৬টা থেকে ২৬ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত) এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেলেন ২৯১ জন। এরমধ্যে রাজশাহীর ১৩৬ জন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০১ জন। ২৪ জুন এ জেলায় সর্বোচ্চ ১৮ জন এবং ১২ জুন সবচেয়ে কম অর্থাৎ চারজনের মৃত্যু হয়।
শামীম ইয়াজদানী জানান, এ হাসপাতালে কোভিড ইউনিটে মৃত্যুহার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৭, মার্চে ৩১, এপ্রিলে ৭৯ ও মে মাসে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়। আর চলতি মাসের ২৬ দিনেই মারা গেল ২৯১ জন।
তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫২ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ৩১ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আট, নাটোরের ছয়, নওগাঁর তিন ও পাবনার চারজন। সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩৪ জন।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে পঞ্চম দিনের লকডাউন
হাসপাতালে বেড়েছে রোগির সংখ্যা। শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৩৫৭ বেডের বিপরীতে মোট চিকিৎসাধীন রোগী আছেন ৪৩১ জন। যা আগের দিন ছিল ৪২৩। অতিরিক্ত রোগিদের মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কোভিড ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগিদের মধ্যে রাজশাহীর ২৯৩ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৬ জন, নাটোরের ৩৩ জন, নওগাঁর ৩৪ জন, পাবনার নয়জন, কুষ্টিয়ার তিনজন, চুয়াডাঙ্গার একজন, দিনাজপুরের একজন ও ঢাকার একজন। আইউসিইউতে ভর্তি আছেন ২০ জন।
একাত্তর/আরবিএস
