সাভারের আশুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আবারও এলাকাবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলতে শোনা যায়, 'শিক্ষার্থীরা গ্রামবাসীর ওপর হামলা করেছে। যে যেখানে আছেন না কেন সকলেই লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় চলে আসেন।'
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নিরাপত্তাকর্মীসহ আট শিক্ষার্থী আহত হবার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে মেহেদী হাসান নামে এক শিক্ষার্থীকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার আশুলিয়ার খাগান এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস সংলগ্ন চানগাঁও গ্রামবাসীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, সন্ধ্যার পর হঠাৎ করে পাশের চানগাঁও এলাকার স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে ট্রেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং দুই বিভাগে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ছাত্ররা এগিয়ে আসলে দু'পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে তারা ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়ে স্থানীয় মসজিদের মাইকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘোষণা দেয়। সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্তত আটজন শিক্ষার্থী। পরে শিক্ষার্থীরা বাইরে বেরিয়ে বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু করে।
এসময় শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে ও সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। তবে এখনও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আশুলিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরাফাত উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যাই। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধারণা করা হচ্ছে পূর্বের হত্যাকাণ্ড ও ভাঙচুরের ঘটনার জের ধরেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে, গত ২৭ অক্টোবর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাবিবুল হাসান অন্তর নামে এক শিক্ষার্থী স্থানীয় কয়েক তরুণের হাতে মারধরের শিকার হয়ে ২ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় একটি বাজারের প্রায় শতাধিক দোকানপাটে ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় মূল আসামি রাহাত নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে ৩ নভেম্বর আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
খুলনায় বাসে আগুন
পলাশীতে প্রাইভেটকারে আগুন