পঞ্চগড়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের কিলঘুষিতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের সাহেবীজোত ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াকুব আলী (৮৩) ওই এলাকার মৃত আফসার আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে জমি নিয়ে বড় ভাই ইয়াকুব আলীর সাথে ছোট ভাই আব্দুল মোমিনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিসও হয়। মঙ্গলবার সকালে আবারো বিরোধে জড়ায় দুই ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে ছোট ভাই আব্দুল মোমিনের কিলঘুষিতে বড় ভাই ইয়াকুব আলীর মৃত্যু হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এদিকে ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছেন নিহতের ছোট ভাই আব্দুল মোমিনসহ তার পরিবারের সদস্যরা।
পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রঞ্জু আহম্মেদ বলেন, রাস্তা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। ছোট ভাইয়ের কিলঘুষিতে বড় ভাই ইয়াকুব আলী মারা গেছেন বলে অভিযোগ এসেছে। আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। তবে ইয়াকুব আলী অসুস্থ ছিলেন বলে শুনেছি। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অপরদিকে, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ঘটেছে ছুরিকাঘাতের ঘটনা।
জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে শাহিন হোসেন (২০) ও ইমন ইসলাম মিনাল (১৮) নামে দুই যুবক আহত হয়েছেন।
সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় দেবীগঞ্জ পৌরসভার দোসীমানায় এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরে তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শাহীনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।
আহত শাহিনের বাড়ি দেবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব দেবীডুবা ডাঙ্গা পাড়া এলাকায়। তিনি ওই এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে। শাহিন পেশায় একজন সিএনজি চালক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১০-১২ দিন আগে শাহিনের সাথে তাহের নামে এক ব্যাক্তির জমির নিয়ে বিরোধ হয়। স্থানীয়ভাবে শালিসে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেন জনপ্রতিনিধিরা। সোমবার রাতে পৌরসভার দোসীমানার দোকানপাড় এলাকায় শাহীনসহ তিনজন বসেছিলেন। একপর্যায়ে শাহীন প্রসাব করার জন্য একটি দোকানের পাশে গেলে তাহের তাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে শাহিনের চিৎকারে মিনাল ও মিলন এগিয়ে গেলে মিনালকে ছুরি মেরে পালিয়ে যান তাহের।
পরে স্থানীয়রা শাহিন ও মিনালকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। শাহিনের শারিরীক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে মিনাল প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।
এদিকে ছুরিকাঘাতে হতাহতের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম। ঘটনাস্থল থেকে ছুরি এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেন।
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক বনশ্রী মন্ডল বলেন, হাসপাতালে দুইজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়। একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রংপুরে স্থানান্তরিত করেন। তার পেটে এবং মুখের চোয়ালে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। অন্যজনের আঘাত গুরুতর না হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার ইফতেখারুল মোকাদ্দেম বলেন, এই ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
