বিএসটিআই মহাপরিচালক এস এম ফেরদৌস আলম বলেছেন, ভোজ্যতেল সংরক্ষণে ব্যবহৃত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা ড্রাম ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ড্রাম ওয়েলে ভিটামিন 'এ' এর ঘাটতি থাকে। ভিটামিন 'এ' এর অভাবে জনিত রোগ যেমন-রাতকানা, অন্ধত্ব, গর্ভকালীন মাতৃমৃত্যুসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যা।
বুধবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক এডভোকেসি সভায় যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় কুমিল্লার বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়িক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএসটিআই মহাপরিচালক ফেরদৌস আলম প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ইতোপূর্বে ভোজ্য লবণ পণ্যে আয়োডিনযুক্ত করে বিক্রি, বিতরণ ও বাজারজাতকরণ বাধ্যতামূলক করায় গলগণ্ড বা গ্যাগ রোগ নির্মূলে ব্যাপক সফলতা পাওয়া গেছে। বর্তমানে আয়োডিনবিহীন খোলা লবণ বিক্রি, বিতরণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ আছে।
তিনি আরও বলেন, ভোজ্যতেল রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এবং বিএসটিআইয়ের তত্বাবধানে দেশে বোতলজাত ভোজ্যতেলে সঠিক মাত্রার (১৫-৩০ পিপিএম) ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধকরণ বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ভোক্তা পর্যায়ে ভিটামিনের মাত্রা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কিন্তু রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানগুলো বোতলের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের প্রচলিত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা ড্রামে ভোজ্যতেল বিক্রি, বিতরণ ও বাজারজাত অব্যাহত রাখায় জনসাধারণের সঠিক মাত্রার (১৫-৩০ পিপিএম) ভিটামিন 'এ' গ্রহণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এছাড়া ড্রামে খোলা তেল বিক্রি বিতরণে ভেজাল মিশ্রিতকরণের সুযোগ থাকায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ি সয়াবিন তেলের নামে পাম অয়েল অথবা পাম অলিন বিক্রি করে জনসাধারণকে প্রতারণা করে আসছে।
মহাপরিচালক আরও বলেন, ব্যবহৃত কেমিক্যালের ড্রামে তেল পরিবহন করায় তেলের গুণগতমানও ঠিক থাকে না। তেলের ড্রাম পরিস্কার করার সুয়োগ না থাকা এবং একই ড্রাম বারবার ব্যবহার করায় মারাত্মক রোগ জীবাণু ছড়ানোর আশংকা থাকে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ। সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল বিক্রি, বিতরণ বন্ধ করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই বলে উল্ল্যেখ করেন বিএসটিআই মহাপরিচালক।
বিএসটিআই ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এডভোকেসি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান, কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সানাউল হক, সাধারণ সম্পাদক আতিকুল্লাহ খোকনসহ খাদ্য অধিদফতর, বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দফতরের কর্মকর্তারা।
বিএসটিআই সূত্রে জানা গেছে, ভোজ্য তেলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের বাজারে সবচেয়ে প্রচলিত সয়াবিন তেল, পাম অলিন যা সুপার নামে পরিচিত এবং এডিবল পাম অয়েল। দেশে দুইভাবে ভোজ্য তেল বিক্রি বাজারজাত করা হয়। বোতলজাত যা ১/২ লিটার, ১ লিটার, ২ লিটার, ৫ লিটার ও ৮ লিটারের বোতলে এবং খোলা তেল যা ২০৪ লিটারের ব্যারেলে পাইকারী পর্যায়ে সরবরাহ করে ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদা মোতাবেক বিক্রি বিতরণ করা হয়।
গবেষণায় বাংলাদেশে প্রচলিত খোলা ভোজ্যতেল জনস্বাস্থ্যের জন্য অনিরাপদ ও সঠিকমানের পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি প্রমাণিত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ড্রামে বাজারজাতকৃত ভোজ্যতেলের ক্ষতিকর দিকগুলো চিহ্নিত করে শিল্পমন্ত্রণালয় এক নির্বাহী আদেশে জুলাই ২০২২ এর পর থেকে ড্রামে খোলা সয়াবিন তেল এবং ডিসেম্বর ২০২২ এরপর থেকে খোলা পাম তেল বাজারজাতকরণের নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
নাটোরে বাসের ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু