চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীর পাড়ে বসে দুই ঘণ্টার বাজার। চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কেনাকাটা আর কৃষকের নায্য মূল্যে পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্য সবজিসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী নিয়ে বসে এই দুই ঘন্টার বাজার।
প্রায় একযুগ আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে উপজেলার তেলিরমোড় লঞ্চঘাটে এই বাজার গড়ে উঠে। চরাঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত লোকজন তাদের উৎপাদিত খাদ্য সামগ্রীর ভাল দামের আশায় নিয়ে আসেন এই বাজারে।
সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে ৯টার মধ্যে শেষ হয় বাজারের বেচাকেনা। কৃষকেরা ট্রলার দিয়ে চরাঞ্চল থেকে সবজিসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী নিয়ে আসেন। নদীর ইলিশসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছও বিক্রি হয় বাজার সংলগ্ন আড়তে। ভোর থেকেই মেঘনা পাড়ে অপেক্ষমান থাকেন পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।
মাঝের চর থেকে বাজারে আসা কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি মৌসুমে সব ধরণের সবজি উৎপাদন করেন। দাম ভাল পাওয়ায় বছর জুড়ে এখানে এনে সবজি বিক্রি করেন। তার জমিতে হয় লাউ, কুমড়া, পেপে, লাল শাক, পুঁই শাক, মুলা, কাঁচা কলা।
বাজারের আড়ৎদার নেছার আহমেদ তালুকদার বলেন, চরাঞ্চলের লোকজন আগে তাদের উৎপাদিত সবজি, দুধ, মাছ, মুরগী ও হাস নিয়ে বিক্রি করার জন্য উপজেলার বিভিন্ন বাজারে আসতেন। কিন্তু তারা সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত ছিলেন। প্রায় এক যুগ আগে এই ঘাটে মেঘনা নদীর পাড়েই দুই ঘন্টার বাজার করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপর থেকে চরাঞ্চলের লোকজন এখানে তাদের উৎপাদিন সব ধরণের পন্য সঠিক মূল্যে বিক্রি করতে পারছেন।
বাজারের আরেক ব্যবসায়ী সৈয়দ পাটওয়ারী জানান, প্রতিদিন এই বাজারে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা বিক্রি হয়। তবে শীতের সময় বিক্রি বেড়ে যায়। কারণ এই সময় চরাঞ্চলের বিষমুক্ত উৎপাদিত সবজির চাহিদা বেড়ে যায়। যে কারণে খুচরা বিক্রেতার সংখ্যা বাড়ে। এছাড়া হাঁস ও মুরগী এখান থেকে ক্রয় করে সরাসরি শহরে নিয়ে বিক্রি করা হয়।
বিক্রেতারা জানান, তারা এই দুই ঘন্টার বাজার থেকে সবজি ক্রয় করে উপজেলার আলগী বাজারসহ পাশবর্তী ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে খুচরা বিক্রি করেন। কারণ এসব এলাকায় চরাঞ্চলে উৎপাদিত সব্জির কদর বেশী এবং বিক্রি করে লাভও ভাল হয়।
চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ড. সাফায়েত আহম্মদ সিদ্দিকী জানান, জেলার কয়েকটি উপজেলায় চরাঞ্চল রয়েছে। এর মধ্যে হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিমের চরাঞ্চলগুলোতে বছরজুড়ে কৃষকরা মৌসুমী শাকসব্জি উৎপাদন করে। এ কারণে চরাঞ্চলের অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হয়েছে। আমাদের প্রচেষ্টা হচ্ছে তাদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা।
