নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শেরপুরের গারো পাহাড়ে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ায় হুমকিতে পড়েছে বন্য প্রাণীরা। অবৈধভাবে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে বিদ্যুতের সংযোগ নিয়ে বসবাসের কারণে বন আলোকিত হওয়ায় বিভিন্ন দিকে চলে যাচ্ছে বন্যপ্রাণীরা। তাই, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য করার দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা।
শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তজুড়ে গারো পাহাড়। একটা সময় পাহাড়জুড়ে দেখা যেতো বহু টিলা। বনের ভেতরে ছিলো বিভিন্ন বন্যপ্রাণীও। কিন্তু অবৈধ দখলদাররা ধীরে ধীরে টিলা কেটে তৈরি করে ঘর-বাড়ি, আর বন উজার করে শুরু করে চাষাবাদ।
আবার কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে টাকার বিনিময়ে বনের ভেতরে অবৈধ ঘর-বাড়িতে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে বসবাস করছেন তারা। বিদ্যুতের সংযোগের ফলে বনের ভেতরটা আলোকিত হওয়ায় বিভিন্ন দিকে চলে যাচ্ছে বন্যপ্রাণীরা। হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য।
এমন অবস্থায় দ্রুত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা।
সবুজ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য বিদ্যুৎ বিভাগ বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে। যারা এখানে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলছে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে। আমরা অবশ্যই এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া বন্ধ করা হোক।
এদিকে, অবৈধ সব বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করা হবে জানিয়েছে জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার আলী হোসেন বলেন, বন বিভাগ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে যদি উদ্যোগ নেয়, উচ্ছেদ অভিযানে আমরা শতভাগ তাদের সমর্থন দেব। বিদ্যুৎ সংযোগ অবশ্যই বিচ্ছিন্ন করবো।
বন বিভাগের তথ্যমতে, জেলার তিন উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার একর বনভূমি রয়েছে। এরমধ্যে বেদখলে রয়েছে প্রায় ২৫০০ একর ভূমি।
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড পরিমাণ টাকা