ঢাকার কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা খালের প্রাণপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি জানান, দখল দূষণ বন্ধ করে পানির প্রবাহ তৈরি করে, আগের মতো যুক্ত করা হবে বুড়িগঙ্গা আর ধলেশ্বরীর সাথে। আর, খালটি উদ্ধারে কাজ করবে সেনাবাহিনী। এলাকাবাসী বলছেন, খালটি উদ্ধার হলে জলাবদ্ধতা কমবে।
ঢাকার কেরাণীগঞ্জের শুভাঢ্যা খালে একটা সময় ছিলো পানির তীব্র প্রবাহ। সেই খালটি এখন দখলে আর দূষণে ইতিহাসের পাতায়। তবে আশার খবর, খালটিতে আবারও পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

সোমবার সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জের মৃত শুভাঢ্যা খাল দেখতে গিয়ে পানি সম্পদ ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এরইমধ্যে খালের দখলদারদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। দ্রুতই খালটি খনন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। আর, শুভাঢ্যা উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সেনাবাহিনী।
খালের ১৪.২ কিলোমিটার অস্তিত্ব বিলীনের পথে। বুড়িগঙ্গা আর ধলেশ্বরীর সাথে এর সংযোগস্থল। আর এখন দখল আর ভরাটের কারণে খালের উৎসমুখে আবর্জনার ভাগাড়। উপদেষ্টা রিজওয়ানা বলেন, এ খালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এজন্য যে, এ খালের সঙ্গে দুটি বড় নদীর সংযোগ রয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, সরকার যতই কাজ করে দিক না কেন, সব গার্মেন্টসের মালিক যদি মনে করে যে, তারা তাদের সব ঝুট-কাপড় এখানে ফেলবে, পৌরসভা যদি মনে করে যে তার যত বর্জ্য আছে সে এখানে ফেলবে, তাহলে আর শতকোটি টাকার প্রকল্প দিয়েও কোনো কাজ হবে না।
তিনি বলেন, খালটা আমার দেখতে আসার কারণ হলো যে, এ খালটি পুনঃখননের জন্য যে প্রকল্প পাস করা হয়েছে, সে প্রকল্প কতটুকু যৌক্তিক। এটার যে ব্যয় ধরা হয়েছে সেটা কতটুকু যৌক্তিক, এটা দেখতে আসা। প্রকল্পের আওতায় ১৪.২৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ শুভাঢ্যা খাল পুনঃখনন ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হবে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এখানে এসে যা দেখলাম, খালটাই আবার অনেক জায়গায় নতুন করে খনন করতে হবে। এখানে খালের প্রবাহ বলতে আসলে কিছু নেই এবং এখানে কেবল যে খাল খনন করতে হবে তা না, এখানে খালের পাড় বাঁধাইয়ের ব্যাপার আছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যাপার আছে।
তিনি বলেন, খালের পাশে হাঁটার রাস্তা করে না দিলে এখানে আবারও খাল দখল হয়ে যেতে পারে। এখানে এসে যেটা শুনলাম, এখন যে কাজটা করা হচ্ছে খালের মাটি কাটার কাজ অর্থাৎ খননের কাজ এটা হচ্ছে সিটি জরিপ অনুযায়ী। প্রকল্পে আসলে আছে সিএস জরিপ অনুযায়ী। সিএস জরিপ অনুযায়ী খালটা অনেক বেশি প্রশস্ত। সেজন্য আমার উপলব্ধিটা নিজে বোঝার জন্য এখানে এসেছি।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এ খালটাতে পানির প্রবাহ ফেরত আনা একটা চ্যালেঞ্জিং কাজ। এখন তো খালের ওপর আমি শুধুমাত্র প্লাস্টিক আর ময়লা-আবর্জনা দেখে এলাম। এ প্রকল্প এই জুনে শুরু হয়ে আগামী জুন-জুলাইয়ে যখন শেষ হবে তখন অন্তত খালের অবয়বটা আপনারা দেখতে পাবেন।
এলাকাবাসী জানান, এক সময় শুভাঢ্যা’র পানি দৈনন্দিন কাজে তারা ব্যবহার করতেন। আর, পালে হাওয়া লাগিয়ে চলতো বড় বড় নৌকা। সেই অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আহবানও জানান তারা।
বৃষ্টিতে এক লাফে তাপমাত্রা কমলো চার ডিগ্রি সেলসিয়াস
২২ মে থেকে বাজারে আসছে নওগাঁর আম