ফ্যাসিস্টের দোসর ও জুলাই হত্যা মামলার আসামি আখ্যা দিয়ে ফখরুল ইসলামকে নোয়াখালী-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাহারে বিএনপিকে উকিল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এই নোটিশ পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন (বাবু)।
লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, নোয়াখালী-৫ (কোম্পানিগঞ্জ-কবিরহাট) আসনের একজন বাসিন্দা, ভোটার, ফ্যাসিস্ট বিরোধী জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী একজন যোদ্ধা ও ছাত্র প্রতিনিধি এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের একনিষ্ঠ অনুসারী, বিএনপির একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ও কর্মী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ (কোম্পানিগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট দোসর, এস. আলমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর রুকন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সদস্য (ক্যাডার) (সরকারি মুজিব কলেজে ছাত্রশিবির মনোনীত সাবেক ভিপি প্রার্থী) ফখরুল ইসলামকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বিএনপির একজন কর্মী ও সমর্থক, উক্ত আসনের বাসিন্দা ও ভোটার এবং ফ্যাসিস্ট বিরোধী জুলাই আন্দোলনের একজন সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে আমি উক্ত মনোনয়নে অত্যন্ত ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছি। ফখরুল ইসলাম আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শক্তির একজন প্রমাণিত দোসর, এস, আলমের ঘনিষ্ঠ সহচর এবং ২০২২ সালে এস, আলমের মালিকানাধীন পদ্মা লাইফ ইন্সুরেন্সের নিযুক্ত চেয়ারম্যান।
নোটিশে বলা হয়, এস. আলম এবং ফ্যাসিস্টের লোকজনদের সাথে তার উঠা-বসার একাধিক ছবি, ভিডিও ও নিউজ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। ফখরুল ইসলাম একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎকারী; দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তিনি ২০১২ সালে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স হতে অপসারিত হয়েছেন। তিনি জুলাই আন্দোলনে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার আন্দোলন নিষ্ঠুর দমন এবং ছাত্র হত্যার হুকুমদাতা, অংশগ্রহণকারী এবং অন্যতম অর্থ যোগানদাতা।
তিনি জুলাই আন্দোলনে ছাত্র হত্যার অভিযোগে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় দায়েরকৃত মামলা নং- ৫৮(৯)২৫, ধারা ৩০২/১০৯/১৪৯/৩৪ দণ্ডবিধি এর ২৯৭ নম্বর আসামি উল্লেখ করে এতে আরও বলা হয়, যার অন্যান্য আসামি হলো- ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান কামাল প্রমুখ। ফখরুল ইসলাম তার একমাত্র ছেলেকে জামায়াত নেতা ও ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আ. ন. ম. আব্দুজ জাহেরের কন্যার সহিত বিবাহ দেন। তার মেজ মেয়ে জলি সুলতানার স্বামী কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং শ্বশুর আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি ও ডেপুটি স্পীকার মো. আলী আশরাফ। তার ছোট মেয়ে নাসরিন সুলতানা মিলি এবি পার্টির জয়েন্ট সেক্রেটারি এবং ঢাকা-১০ আসনের এবি পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য প্রার্থী।
উকিল নোটিশে আরও বলা হয়, ফখরুল ইসলাম অতীতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের সাথে সার্বক্ষণিক সখ্যতা বজায় রেখে চলেছেন। তিনি কখনোই বিএনপির রাজনীতির সহিত সম্পৃক্ত ছিলেন না। বিএনপি এবং তৃণমূলের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহিত তার সক্রিয় কোন যোগাযোগ নেই। তিনি ২০০৯ সালে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন।
এমন পরিস্থিতিতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফখরুল ইসলামকে নোয়াখালী-৫ (কোম্পানিঞ্জ-কবিরহাট) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'র দলীয় মনোনয়ন প্রদান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রণীত দলীয় নীতি ও কর্মসূচি এবং সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জ্বলাই সনদের পরিপন্থি, নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায়, ফখরুল ইসলামকে প্রদত্ত নোয়াখালী-৫ (কোম্পানিঞ্জ-কবিরহাট) আসনে বিএনপি'র দলীয় মনোনয়ন আগামী ২৪ (চব্বিশ) ঘন্টার মধ্যে অবিলম্বে প্রত্যাহার করে, দলীয় একনিষ্ঠ, ত্যাগী ও জনবান্ধব কাউকে উক্ত আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করার জন্য আপনাকে বিনীত অনুরোধ জানিয়ে অত্র লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করছি। অন্যথায়, যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হাদি হত্যার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ভারতে পলাতক: ডিএমপি