বরিশালের আগৈলঝাড়ায় হরিণের খামার থেকে গোপনে মাংস বিক্রির সময় ৩৭ কেজি হরিণের মাংস জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় ওই খামারির ছাদের স্টোররুম থেকে ছয়টি হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই খামারের মালিকসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার গ্রামের বেসরকারি এনজিও আলোশিখা রাজিহার সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্রের হরিণের খামার থেকে গোপনে হরিণ জবাই করে মাংস বিক্রির সময় জনতার হাতে ধরা পরে ওই খামারের কর্মচারী মো. হায়দার। এসময় হায়দারকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দিলে পালিয়ে যায় সে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই এনজিওর একটি কক্ষে থাকা ফ্রিজ থেকে ৩৫ কেজিসহ মোট ৩৭ কেজি হরিণের মাংস জব্দ করে পুলিশ।
এসময় আটককৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই এনজিও’র ছাদের একটি স্টোররুম থেকে ছয়টি হরিণের চামড়াও উদ্ধার করা হয়। পরে খামারের মালিক ও আলোশিখার রাজিহার সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক জেমস মৃদুল হালদার, তার কর্মচারী বিপ্লব সরকার, সুনীল হালদার ও খোকন সরকারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
আরও পড়ুন: মানুষের অনুকরণে কথা বলতে পারে হাঁসও!
বেসরকারি এনজিও আলোশিখা রাজিহার সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্রের মাধ্যমে পরিচালিত ওই খামারটিতে বহু বছর আগে থেকেই হরিণের পালন করে আসছিল জেমস মৃদুল হালদার।
এলাকাবাসী জানায়, প্রতি কেজি দুই হাজার টাকা দরে মাংস বিক্রি করার সময় জনতার হাতে ধরা পরে কর্মচারী হায়দার। তবে পুলিশ আসার আগেই দৌড়ে পালিয়ে যায় সে।
আর মাংস বিক্রির সময় জনতার হাতে আটক হওয়া হায়দার জানান, মালিকের নির্দেশেই অসুস্থ হরিণ জবাই করে হরিণের মাংস বিক্রি করছিলেন তিনি।
পরে খামারের মালিক জানান, হরিণটি অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার পর তা জবাই করে বিভিন্ন লোককে মাংস দান করার জন্য তা ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। বিক্রির উদ্দেশ্যে মাংস ফ্রিজে রাখা হয়নি।
এ ঘটনায় আটক খামারের মালিক ও এনজিও আলোশিখা রাজিহার সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্রর নির্বাহী পরিচালক জেমস মৃদুল হালদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন মোবাইল কোর্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবুল হাশেম। এসময় ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সুনীল হালদার ও খোকন সরকারকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এসময় জব্দকৃত ৩৭ কেজি হরিণের মাংস আগুনে পুড়িয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয় এবং উদ্ধারকৃত মধ্যে ৬ টি হরিণের চামড়ার মধ্যে ১ কাঁচা চামড়া আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করে বাকী ৫টি চামড়া খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আগৈলঝাড়া নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম।
একাত্তর/এসজে
