শতবর্ষের ঐতিহ্য ধরে রেখে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে এবারও অনুষ্ঠিত হলো দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত। লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে ঈদের এই প্রধান জামাত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
শনিবার (২১ মার্চ) ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা শোলাকিয়া ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ময়দানের ভেতর জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সড়ক, খোলা স্থান এবং নিকটবর্তী ভবনের ছাদেও দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন অনেকে।

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মুসল্লিদের জামাতে প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়। একাধিক তল্লাশি পয়েন্ট অতিক্রম করে তারা ঈদের জামাতে শরিক হন।
সকাল ১০টায় জামাত শুরু হয়। ঈদের নামাজে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মো. সাইফুল্লাহ। নামাজ শেষে তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ খুতবা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে অংশ নিয়ে অনেক মুসল্লিকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তে দেখা যায়।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় একশ বছর আগে একসঙ্গে সোয়া লাখ মুসল্লির নামাজ আদায়ের ঘটনা থেকে ‘সোয়ালাখিয়া’ নামের উৎপত্তি, যা পরবর্তীতে ‘শোলাকিয়া’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী, নামাজ শুরুর আগে শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের প্রস্তুতির সংকেত দেওয়া হয়।
ঈদের এই বৃহৎ জামাতে অংশ নেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল), জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লাসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম বলেন, কিশোরগঞ্জ ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদের ১৯৯তম জামাত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। এই ঐতিহাসিক জামাতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের পরিচিতি অন্যতম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সাংবাদিকদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার পক্ষ থেকে আমাদের কিশোরগঞ্জের পক্ষ থেকে কিশোরগঞ্জবাসী ও সমগ্র বাংলার জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করব যেন দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে। দেশ ও দশের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপগুলো যেন বাস্তবায়ন করতে পারে। আমরা যেন মানুষের কল্যাণে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করতে পারি।
মুসলিম বিশ্বের উপর যে অত্যাচার ও জুলুম হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় মুসলমানরা নিগৃহীত ও অত্যাচারিত হচ্ছে তাদের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করব মুসলমানদের উপর অত্যাচার ও জুলুম থেকে যেন তারা মুক্তি লাভ করেন। তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর
দল-মত নির্বিশেষে সকলে মিলে দেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর