রংপুরে চারজনকে হত্যা: পুলিশের তদন্তের দাবি নিয়ে প্রশ্ন, উত্তাল রাজপথ

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী এবং তার পরিবারের চার সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রংপুর। পুলিশের তদন্ত অগ্রগতি ও উপস্থাপিত বক্তব্য নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে তা ‘অবিশ্বাস্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারীরা। তিনদিনের আলটিমেটাম দিয়ে রংপুরজুড়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, শোক মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। 

​পুলিশের দাবি বনাম আন্দোলনকারীদের সন্দেহ

​গত রোববার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, মাদক (ইয়াবা) সেবনের ঘটনা দেখে ফেলার কারণেই গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করা হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তার দুই যুবক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে ইয়াবা সেবন করতে উঠলে তিনি তাদের বাধা দেন। তখন প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে এবং পরে পরিবারের বাকি তিন সদস্যকে হত্যা করা হয়। 

​তবে আন্দোলনকারী, সাধারণ নাগরিক ও নিহতদের স্বজনেরা পুলিশের এই ব্যাখ্যা মেনে নিতে পারছেন না। রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী নূর বলেন, হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুইজনকে জড়িয়ে দেওয়া পুলিশের বক্তব্যে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। 

​রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সফিয়ার রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের হত্যার ঘটনায় নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে। এই নাটক থেকে বেরিয়ে এসে সত্য উদঘাটন করতে হবে। খুনিকে আড়াল করার চেষ্টা করলে ফল ভালো হবে না। 

​সাবেক শিক্ষার্থী চৌধুরী মাহমুদুল নবী ডলার বলেন, বাড়ির সিসিটিভি ও বৈদ্যুতিক তার কাটা হলো, চারজনকে হত্যা করা হলো অথচ আশপাশের কেউ টের পেল না—এসব বিষয় না খতিয়ে দেখে হঠাৎ দুজনকে ধরে খুনি বলে দেওয়া রহস্যজনক।

বিচার চেয়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন

​সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রংপুর নগরীর কাছারীবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন জিলা স্কুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। এর আগে স্কুলের সামনে মানববন্ধন ও শোক মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কাছারীবাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। কর্মসূচিতে সংহতি জানান অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ ও মহানগর নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ। 

​এ ছাড়াও বিকেলে রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে মহানগর নাগরিক কমিটি। সেখানে বক্তারা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানান। 

​একই চিতায় জ্বলল চার লাশ

​এর আগে রবিবার (২৩ আগস্ট) রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত সাড় ৮টার দিকে নিহত চারজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে নগরীর দখীগঞ্জ মহাশ্মশানে মরদেহগুলো নেওয়া হয়। এক হৃদয়বিদারক পরিবেশে একই সঙ্গে চারটি চিতায় চার স্বজনের দাহকার্য সম্পন্ন করা হয়। স্বজনদের কান্নায় পুরো শ্মশান এলাকায় মাতম নেমে আসে। 

ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও সুরতহাল

​রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানান, প্রাথমিক ময়নাতদন্তে মনে হয়েছে নিহত চারজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মুখমণ্ডল বিকৃত হওয়ার বিষয়টি মরদেহে পচন ধরার কারণে হয়েছে, এতে কোনো অ্যাসিড বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের আলামত মেলেনি। চূড়ান্ত মতামতের জন্য সংগৃহীত নমুনা সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। 

​আদালত ও মামলা পরিস্থিতি

​কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি জানান, গ্রেফতারকৃত দুই আসামি—মুক্ত দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)—রবিবার রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক এসএম রফিকুল ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

​ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। 

​এদিকে, মঙ্গলবার জিলা স্কুলে নিহতদের স্মরণে প্রার্থনা সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

আরবিএস
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ বলছে, বাড়ির ছাদে...
রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে জিলা স্কুলের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা...
সার ব্যবস্থাপনায় যারা অনিয়ম ও কৃত্রিম সংকট তৈরি করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষি সচিব মো. সেলিম খান।
রংপুরে সেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড ও তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ট্রাইব্যুনালের বিচারককে অবিলম্বে ফৌজদারি মামলার বিচারিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যবর্তী সংঘাতের ষষ্ঠ মাসে এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়ছে। ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে একটি নতুন ব্যাপক অর্থনৈতিক...
ইরানের ওপর এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন ডলারভিত্তিক বিশ্ব আর্থিক ব্যবস্থা থেকে...
আগামী ৫ সেপ্টেম্বরে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ চারটি রুটে লং মার্চ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য জোট কোনো আশঙ্কা দেখছে না বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। 
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর