নেত্রকোণার কলমাকান্দায় দশ বছর বয়সী সাদিয়া আক্তার নামে এক কন্যা শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত প্রায় সাড়ে ১১টায় উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের রায়পুর গ্রাম থেকে দশ বছর বয়সী সাদিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে কলমাকান্দা থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাদিয়া রংছাতি ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের আব্দুল করিম ও সুফিয়া বেগমের মেয়ে। সে নাগনী চারিকুমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাদিয়ার মা সংসার ছেড়ে বিদেশ যাওয়ার জন্য জোর করছিলেন তার বাবা আব্দুল করিমের সঙ্গে। এনিয়ে এলাকায় শালিস হয় বেশ কয়েকবার। কিন্তু স্বামী-সন্তানসহ কারো কোনো কথাতেই রাজি হননি সুফিয়া। বিদেশ (জর্ডান) যাবার একক সিদ্ধান্তে অটল থাকেন সুফিয়া।
এদিকে মায়ের বিদেশ যাওয়া আটকাটে মেয়ে সাদিয়ে কান্নাকাটি করলেও তাতে কোন লাভ হয়নি। বিদেশ যাওয়ার জন্য ১২ দিন আগে একই গ্রামে নিজের বাবার বাড়িতে চলে যান সাদিয়ার মা সুফিয়া।
আরও পড়ুন: পাঁচ সন্তানের পিতার সাথে প্রেম, স্বীকৃতির দাবিতে শরীরে আগুন
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় সাদিয়ার মা ওষুধ আনতে বাজারে যান। এই খবর শুনে সাদিয়া মনে করে, তার মা তাদেরকে না জানিয়ে কৌশলে বিদেশে চলে যাচ্ছে। এসময় তার বাড়িতে বাবা, ভাই কেউ ছিলো না।
জানা যায়, সেসময় মায়ের প্রতি অভিমান দেখিয়ে রান্নাঘরের বাঁশের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সাদিয়া। পরে সন্ধ্যায় সাদিয়াকে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোজাঁখুজি শুরু করেন। এসময় রান্নাঘরে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় লোকজন।
খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানা পুলিশ এসে সাদিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ নামায়।
এবিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান একাত্তরকে জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।
থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
একাত্তর/আরএইচ
