টাকা দিয়ে ভোট কিনতে গিয়ে ধাওয়া খেয়ে পালিয়েছেন পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ। এমনটাই দাবি করে স্থানীয়রা বলছেন, এ ঘটনায় মহিউদ্দিনের সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবসায়ীদের ওপর হামলাও চালিয়েছে। যাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
শুক্রবার রাতের এ ঘটনায় প্রতিরোধের মুখে মহিউদ্দিন ও তার সাথের লোকেরা পালিয়ে গেছেন দাবি করে স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রচার শেষ হলেও মেয়র মহিউদ্দিন তার লোকজন নিয়ে ভোটারদের টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছিলেন। কয়েকজন ব্যবসায়ী এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে, মহিউদ্দিন ও তার লোকজন আতর্কিত হামলা চালিয়ে বসে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।
এদিকে বৃহস্পতিবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগে জগ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মহিউদ্দিন আহম্মেদের বিরুদ্ধে ভোটারদের টাকা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী মোবাইল প্রতীকের প্রার্থী ডা. মো. শফিকুল ইসলাম।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগে ডা. শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, জগ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া মহিউদ্দিন আহম্মেদ ও তার লোকজন টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার প্রতিযোগিতায় মেতেছেন এবং সেই প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন।
বিশেষ করে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে পৌর এলাকার ১, ৮ এবং ৯নং ওয়ার্ডে টাকা দিয়ে ভোট কিনছেন মহিউদ্দিন আহম্মেদ। যা নিয়ে ইতোমধ্য বিতর্ক দেখা দিয়েছে। টাকা দিয়ে ভোটের মাঠে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছেন তিনি। ফলে নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
টাকা দিয়ে ভোট সংগ্রহের বিষয়টি মোবাইল প্রতীকের প্রার্থী শফিকুল ইসলামকে তার নির্বাচনী কর্মী-সমর্থকরা জানিয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
শনিবার ইভিএমের মাধ্যমে পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে ৫, কাউন্সিলর পদে ৪১ এবং তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১৫ জনসহ ৬১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
পৌরসভার মোট ভোটার ৫০ হাজার ৬৯৯ জন।
বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১২টায় শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচার। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা এরইমধ্যে প্রচারণার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে।
সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে নির্বাচনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মনিটরিং সেলও গঠন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, এ নির্বাচনে চাহিদার তুলনায় বেশি ফোর্স দেয়া হয়েছে। এরপরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলেই ভোট বন্ধ করে দেয়া হবে।
দুই সিটির ভোট: মধ্যরাতে শেষ হলো প্রচার
উপনির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তাবেষ্টনীতে কুমিল্লা নগরী