মৌসুমি বায়ু বদলে সঙ্গে দেশে এখন বইছে নির্বাচনি বাতাস। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়েছে অনেক আগেই। মাস পার হতেই ঘোষণা হবে নির্বাচনের তফসিল। ইতিমধ্যে অনেক রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে কেউ করেছেন পুরোটা, কেউ আংশিক, আবার কেউ প্রাথমিক। এই প্রার্থী ঘোষণার পর পরই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন চঞ্চল হয়ে উঠেছে, বেড়েছে উত্তেজনাও। দেশের যে কয়টি আসনে প্রার্থী নিয়ে উত্তেজনা চলছে তার মধ্যে অন্যতম পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিন) আসন। এই আসনে বিএনপি এখনও প্রার্থী ঘোষণা দেয়নি। আবার এই আসনটি গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরুল হক নুরের জন্য আলোচিত। ধারণা করা হচ্ছে- শরিকদের ছেড়ে দিতে বিএনপি এই আসনে এখনও প্রার্থী দেয়নি। তবে এনিয়ে অসন্তোষ রয়েছে দলটির তৃণমূলে।
তৃণমূলের দাবি, বিগত দিনে কোনো দলের শীর্ষ নেতারা এলাকায় গেলে যেমন মানুষের ঢল নামে, ঠিক তেমনি মানুষের ঢল নেমেছে বিএনপির গলাচিপা-দশমিনার প্রতিটি ইউনিয়নে জনসভায়। একটাই দাবি, যে কোনো মূল্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন এই এলাকার প্রার্থী ঘোষণা করতে হবে।
বিএনপি ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও এই আসনটি ফাঁকা রাখা হয়েছে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘমেয়াদে বিএনপি এই আসনে কখনোই জয় পায়নি। তবে এখন আওয়ামী লীগের দুর্গ নামে পরিচিত পটুয়াখালী-৩ আসন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করার কারণে হাসান মামুনের হাত ধরে জয়লাভের আশায় তৃণমূল বিএনপি।
এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিদ্দিকুর রহমানের সোজাসাপ্টা ভাষ্য, আমাদের প্রার্থী হাসান মানুষ। তার মার্কা আমরা পরে জানিয়ে দেবো।

হাসান মামুন বলেন, ২০১৮ সালে বিএনপির সব যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের আওয়ামী লীগের সাবেক একজন এমপিকে এনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ব্যক্তিগতভাবে তার প্রতি আমার শ্রদ্ধায় ন্যূনতম কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এক গাছের ছাল যেমন আর এক গাছে লাগে না, একজনের সন্তানও আরেক জনকে বাবা ডাকে না। সেই কারণে এক দল থেকে নেতৃত্ব এনে আরেক দলে প্রতিষ্ঠিত করলে ওই দলের নেতাকর্মীরা নীরবে শূন্য হাতে ফেরত যায়।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অপ্রত্যাশিতভাবে গোলাম মাওলা রনির ভাইকে ২০১৮ সালে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়ার পরেও এই অঞ্চলের জনগণকে আমরা কিছুই দিতে পারিনি। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম- রনি ভাইকে দিয়ে যদি আবারও বিজয় অর্জন করা যায়, আমরা সেই ত্যাগ স্বীকার করার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো- নির্বাচনের পরের দিন থেকে আমাদের সেই পরম শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি এই অঞ্চলের জনগণ এবং বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে শূন্য হাতে রেখে তিনি ফেরত গিয়েছেন। আর এই জনপদে কখনোই ফিরে আসেননি। গলাচিপা-দশমিনায় বিএনপির নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণ যারা তার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ছিলেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৮৭ জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হন; কিন্তু তাদের মুক্তির জন্য ন্যূনতম কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। অ্যাডভোকেট খোকন ভাই মারা গেছেন, তিনি বলতে পারতেন এবং দশমিনার যে সব আইনজীবীরা ছিলেন, আমরা নির্বাচনের পরের দিন বলেছি বিএনপির নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণ যারা এই নির্বাচনকে ঘিরে অন্ধকারে রয়েছেন, আপনারা তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করুন। ব্যয় আমি বহন করবো। দল আমাকে মনোনয়ন না দিলেও প্রিয় দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন আমি তাদেরই আপন জন এবং আমি তাদেরই ভাই।
