পটুয়াখালীর গলাচিপায় পুত্রবধূকে ধর্ষণ ও নবজাতক শিশুকে অপহরণ করে পাচারের অভিযোগে শ্বশুরসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন—ভুক্তভোগী গৃহবধূর শ্বশুর রুস্তুম গাজী (৫৫) এবং একটি ক্লিনিকের সহায়তাকারী মোসা. লিপি বেগম (৩৫)। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে রোববার (২৬ এপ্রিল) ভুক্তভোগী গৃহবধূ (২৫) বাদি হয়ে শ্বশুর রুস্তুম গাজী ও শাশুড়ি হাওয়া বেগমসহ পাঁচজনকে আসামি করে গলাচিপা থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই গৃহবধূর স্বামী প্রবাসী। স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে এবং শাশুড়ি বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি শ্বশুর রুস্তুম গাজী তাকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং বিভিন্নভাবে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা চালায়।
গত ২৬ মার্চ প্রসব বেদনা নিয়ে গলাচিপার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি হন শারমিন। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রসবের পর মায়ের অজান্তে ক্লিনিকের সহায়তাকারী লিপি বেগম নবজাতক শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যান।
গলাচিপা থানার পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলার গোছখালী এলাকা থেকে অপহৃত নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে ওই গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। তিনি বিষয়টি শাশুড়িকে জানান। অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার বিষয়টি তাকে জানানো হয়। এ সময় তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হলেও গৃহবধূ তা মেনে নেননি। গর্ভের বয়স যখন সাত থেকে আট মাস তখন তাকে একবার গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করা হয়েছিলো। কিন্তু করতে পারেনা। পরে সন্তানটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর জ্ঞান ফিরলে গৃহবধূ দেখেন সন্তানটি তার কাছে নেই।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি রুস্তুম গাজী ও লিপি বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
