কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষার উত্তরপত্র শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকের নাম মো. রিপন হোসেন। তিনি উপজেলার ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএম) ইনস্টিটিউটের বাংলা বিষয়ের প্রভাষক এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষক ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তরপত্র মূল্যায়নে অবহেলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহ মানজুরের সই করা এক অফিস আদেশের মাধ্যমে রিপন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে এ সংক্রান্ত একটি খবর একাত্তরের অনলাইন প্রকাশিত হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, গত দুই আগস্ট এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অবহেলা ও এসংক্রান্ত ভিডিও অনলাইনে প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সোমবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চে বসে চারজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র হাতে নিয়ে কাজ করছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পরীক্ষকের বদলে শিক্ষার্থীদের দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
তবে বরখাস্ত হওয়ার পর এক ভিডিও বার্তায় অভিযুক্ত প্রভাষক রিপন হোসেন দাবি করেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ তিনি নিজেই করেছেন। কেবল পরীক্ষক কর্তৃক পূরণীয় কিছু ওএমআর বৃত্ত ভরাট বাকি ছিলো। অসুস্থতা ও চোখের সমস্যার কারণে তার উপস্থিতিতেই বৃত্ত ভরাটের জন্য কয়েকজন ছাত্রের সহযোগিতা নিয়েছিলেন। সেই ফাঁকেই তিনি কার্যালয়ে যান। এ ধরনের দায়িত্ব অবহেলার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
ছোটবাইশদিয়া বিএম ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ মানজুর জানান, শিক্ষক রিপন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক জানান, ঘটনার সত্যতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা বিষয়ের ৩৫০টি উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল প্রভাষক রিপন হোসেনকে। আগামী ছয় আগস্টের মধ্যে এসব উত্তরপত্র বোর্ডে জমা দেওয়ার কথা ছিল। উত্তরপত্র মূল্যায়নে এমন অনিয়মের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর পরীক্ষার গোপনীয়তা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
