কাশ্মীরের শ্রীনগরের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র ডাল লেকে হাউজবোটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত তিন বাংলাদেশি পর্যটকের বাড়ি চট্টগ্রামে। চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন ওই তিনজন। সেখান থেকে কাশ্মীরে বেড়াতে গিয়ে তারা অগ্নি দুর্ঘটনায় পড়েন।
নিহত তিন পর্যটকের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনরা।
নিহতরা হলেন- রাঙামাটি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অনিন্দ্য কৌশল, চট্টগ্রামের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমন দাশ গুপ্ত ও ঠিকাদার মো. মাঈনুদ্দীন।
সরেজমিনে চট্টগ্রামে নিহত প্রকৌশলী অনিন্দ্য কৌশলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় দেয়ালে টাঙানো মেয়ের জন্মদিবস উদযাপনের ছবি। বাবার সাথে তোলা সেই ছবি হাত দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে নিহত প্রকৌশলীর চার বছরের শিশু সন্তান অনন্বয়ী স্পৃহা। সে এখনও জানে না- বাবা তার, ফিরবে না কোনোদিন।
অনিন্দ কৌশল ছিলেন রাঙ্গামাটি গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী। তার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পেয়ে রোববার সকালে চট্টগ্রামের আশকার দিঘীর পাড়ের অনিন্দ্যের বাসায় সমবেদনা জানাতে আসেন আত্মীয় স্বজন-সহকর্মীরা। বেড়াতে গিয়ে এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা।
অনিন্দ্যের বাবা স্বপন কুমার নাথ জানান, তারা কাশ্মীরে ঢুকে যাওয়ার পর রাত হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই ওখানে ছিলো।
শোক চলছে গণপূর্ত বিভাগে আরেক প্রকৌশলী ইমন দাশগুপ্তের পাঁচলাইশের বাড়িতেও।
ইমন দাশ গুপ্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাহুল গুহ। বলেন, এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না ইমন নেই। ভারতের পত্র-পত্রিকার খবর থেকে শুরুতে আমরা ঘটনা জানতে পারি। পরে সেখানকার অথরিটি পরিচয় নিশ্চিত করেছে। আমরা পরিবারের একজনকে হারালাম।

ইমন দাশের অন্য স্বজনরা দ্রুত দেশে মরদেহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে বলেন, দুই দেশের সরকারের কাছে আমরা দ্রুত দেশে মরদেহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।
মাঈনুদ্দীন বাড়ি রাউজান উপজেলায়। মাঈনুদ্দীনের নিকটাত্মীয় চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার আসিফ মহিউদ্দিন জানান, গত ৩ নভেম্বর তারা তিনজনই চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তারা কাশ্মীরে বেড়াতে যান। এর মধ্যে গতকাল দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, শনিবার সকাল ৫টার দিকে ডাল লেকের ৯ নম্বর ঘাটের কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে একটি হাউজবোটে আগুন লাগে এবং পরে তা পাশে নোঙ্গর করে রাখা আরও চারটি হাউজবোটে ছড়িয়ে পড়ে।
পুড়ে যাওয়া পাঁচটি হাউজবোটের মধ্যে একটিতে তিন বাংলাদেশি পর্যটক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন সাতজন।
কাশ্মীরে হাউসবোটে আগুন, তিন বাংলাদেশি নিহত