পটুয়াখালীর দশমিনায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ চাচা শ্বশুরকে ফাঁসাতে চাচার সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে আট বছরের শিশু মরিয়মকে তার মা হত্যা করেছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের রামবল্লভ গ্রামের একটি ভিটায় শিশু মরিয়মকে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়। এরপর পুলিশ মরিয়মের মা রিনা বেগম ও চাচা সেন্টু মৃধাকে মঙ্গলবার আটক করে এবং বুধবার তারা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত স্বীকার করে দশমিনা উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
নিহত শিশু মরিয়ম মকবুল মৃধা ও রিনা বেগম দম্পতির তিন মেয়ের মধ্যে ছোটো এবং স্থানীয় রায়বল্লভ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ছিলো।
পটু্য়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম জানান, রিনা বেগমদের পরিবারের সাথে চাচা শ্বশুর আব্দুর রাজ্জাক মৃধার পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধসহ মামলা চলছিল। প্রতিপক্ষের সাথে কোনোভাবেই পেরে উঠতে পারছিলো না তারা। তাই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে শিশু মরিয়মকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তার মা রিনা বেগম ও তার দেবর সেন্টু মৃধা ।
তিনি জানান, আব্দুর রাজ্জাক মৃধাদের ফাঁসাতে প্রথমে নারী নির্যাতনের মামলার পরিকল্পনা হয়। পরে নির্যাতনের মামলা টিকবে না চিন্তা করে চাচা ও মা তিন মেয়ের মধ্যে ছোট আট বছরের শিশু মরিয়মকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
তিনি আরও জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর পরিকল্পনা অনুযায়ী মরিয়মকে বাড়ির পাশে কৃষিজমিতে একটি ভিটায় নিয়ে যান তারা। সেখানে রেইনট্রি গাছের লাঠি দিয়ে মরিয়মকে আঘাত করে সেন্টু। মরিয়ম যাতে চিৎকার করতে না পারে, সেজন্য মরিয়মের মুখে ও গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে ধরে তার মা।
হত্যাকাণ্ড শেষে কেউ যাতে তাকে সন্দেহ করতে না পারে, সেজন্য রিনা বেগম পুকুরে নেমে মরিয়মকে খোঁজার কথা বলে গায়ে লেগে থাকা রক্ত ধুয়ে ফেলেন বলে বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম খুন হওয়া শিশুটির মা রিনা বেগমকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লাঠি ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করতে গিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান।
ফেনী সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক ২৩ বাংলাদেশি 