জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সহপাঠী আম্মাদ সিদ্দিকীকে দুই দিনের রিমাণ্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিক এ আদেশ দেন বলে জানান মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী কৌশলী অ্যাড. রফিকুল ইসলাম হিরা।
এদিকে সরেজমিন আদালত চত্ত্বরে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর একটায় মাইক্রোবাসে করে পুলিশের প্রায় ১০ সদস্যের একটি দলের নিরাপত্তা বলয়ে তাকে কোর্ট জেলখানায় আনা হয়। এসময় তার মুখে মাক্স পরা ছিল।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাড. রফিকুল ইসলাম হিরা জানান, আম্মান রিমান্ডে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। রোববারের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত রোববার (১৭ মার্চ) রাতে জবি শিক্ষার্থী আম্মান সিদ্দিকী ও সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশে হস্তান্তর করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতয়ালি মডেল থানায় অবন্তিকার মা তাহমিনা শবনম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। পরে পুলিশ আম্মান সিদ্দিকীর পাঁচ দিন এবং সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামের দুই দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করে। আদালত আম্মানের দুই দিন এবং দ্বীন ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
এর আগে অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় মায়ের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে একদিনের রিমান্ড শেষে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আবু বক্কর সিদ্দিক তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শুক্রবার (১৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে দিয়ে আত্মহত্যা করেন অবন্তিকা। এর জন্য জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকীকে দায়ি করেন তিনি। অবন্তিকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কুমিল্লা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক প্রয়াত জামাল উদ্দিনের মেয়ে।
অবন্তিকার মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি