কুমিল্লায় অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা, আনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-০১ এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ রায় দেন।
দণ্ডিত ব্যক্তির নাম মো. আলাউদ্দিন (৪৮)। তিনি বরিশাল সদর উপজেলার কুণ্ডলি পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা, ২০২০ সালের ১৮ জুলাই ওই কিশোরীকে (১৩) ধর্ষণ করেন আলাউদ্দিন। পরে ভয়ে দেখিয়ে ছেড়ে দেন। এরপর কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
পরে কিশোরী বাবা চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ আসামি গ্রেপ্তার করে। ২০২৩ সালের পাঁচ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে সাত জনের সাক্ষ্য শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণের কারণে জন্ম নেওয়া সন্তানকে মা কিংবা তার আত্মীয়-স্বজনের তত্ত্বাবধানে রাখা যাবে। সন্তানটি তার পিতা বা মাতা কিংবা উভয় পরিচয়ে পরিচিত হতে পারে। ওই সন্তানের বয়স ২১ বছর না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে।
আদালত জানায়, ওই সন্তানের ভরণপোষণের জন্য অর্থ সরকার ধর্ষক আলাউদ্দিনের কাছ থেকে আদায় করতে পারবে।
আইনের ১৫ ধারা অনুসারে আসামির বিরুদ্ধে আরোপিত অর্থদণ্ডের অর্থকে ধর্ষণের শিকার ভিকটিমের ক্ষতিপূরণ হিসাবে গণ্য করা হয়। দণ্ডিত অর্থ ভিকটিমকে পরিশোধ না করলে একই আইন অনুসারে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ওই টাকা ভিকটিমকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধ করার জন্য ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর, কুমিল্লাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্র পক্ষের কৌশলী স্পেশাল পিপি অ্যাড. প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন, আশা করছি উচ্চ আদালত এ রায় বহাল রাখবে।
ওটিতে প্রসূতির মৃত্যু, হাসপাতাল ভাঙচুর, কর্তৃপক্ষ চম্পট